ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প: নিহত বেড়ে ৫১

August 16, 2026 | Feature-2 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী ৭.৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। ধসে পড়া শত শত ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে আটকে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা বর্তমানে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভূমিকম্পের আঘাত ও আফটারশক
শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোর ৫টার কিছু আগে রিখটার স্কেলে ৭.৭ মাত্রার এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার গভীরে। প্রধান কম্পনের পরপরই ওই এলাকায় একাধিক শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও প্রাণহানি
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাঙ্গারাই অঞ্চল, যেখানে সর্বোচ্চ ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পূর্ব মাঙ্গারাইয়ে ১৭ জন, সিক্কায় ৩ জন এবং এনগাদা, এনদে ও পশ্চিম মাঙ্গারাইয়ে অন্তত ১ জন করে নিহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে অনেকেই ভোরবেলা ঘুমের মধ্যে ভবন ধসে মারা যান বলে নিশ্চিত করেছেন পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা।

বন্দর ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি
ফ্লোরেসের সবচেয়ে বড় শহর মাউমেরে বন্দরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। টার্মিনাল ভবনের বড় একটি অংশ ভেঙে অপেক্ষারত যাত্রীদের ওপর পড়ে এবং জাহাজের গ্যাংওয়ে ভেঙে কয়েকজন যাত্রী সমুদ্রে পড়ে যান। ভূমিধসের কারণে বেশ কয়েকটি পাহাড়ি গ্রামের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সুনামি সতর্কতা ও উদ্ধার তৎপরতা
ভূমিকম্পের পরপরই উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হলে প্রায় ২ হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান। তবে সমুদ্রে বড় ধরনের ঢেউ না ওঠায় ৩ ঘণ্টা পর সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেয় কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ১০ হাজার ৫০০ প্যাকেজ ত্রাণ পাঠিয়েছে। রুটেং শহরের হাসপাতালের বাইরে অস্থায়ী মেডিকেল তাবু খাটিয়ে আহতদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।



Leave a Comment