কারিবা হ্রদে ফেরি ডুবি: জিম্বাবুয়েতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৪
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে ভয়াবহ যাত্রীবাহী ফেরি ডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চলাকালে উদ্ধারকারী দল নতুন করে আরও কিছু লাশ উদ্ধার করার পর নিহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জিম্বাবুয়ের জাতীয় পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, সর্বশেষ চারটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ধারণা, দেশটির ইতিহাসে নৌ-দুর্ঘটনার মধ্যে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী।
এর আগে গত মঙ্গলবার জাম্বিয়া সীমান্তের কাছে অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য বোঝাই ফেরিটি প্রবল বাতাসের কবলে পড়ে উলটে যায়। ফেরিটিতে আনুমানিক ১৫৩ জন যাত্রী ছিলেন, যা এর অনুমোদিত ৯০ জনের ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। তবে দুর্ঘটনার মুহূর্তটিতে ঠিক কতজন যাত্রী ও নাবিক উপস্থিত ছিলেন, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। জলযানটি জিম্বাবুয়ের উত্তরের কারিবা শহর থেকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি প্রত্যন্ত মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের এলাকার দিকে যাচ্ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে দেখা যায়, নিহত স্বজনদের লাশ শনাক্ত করতে স্থানীয় একটি হাসপাতালের বাইরে শত শত মানুষ অশ্রুসজল চোখে অপেক্ষা করছেন। মর্মাহত স্বজনদের আর্তনাদে পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর এক বিবৃতিতে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া গভীর শোক প্রকাশ করে এটিকে একটি ‘মর্মান্তিক দুর্ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এই বিপর্যয় দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থার বেশ কিছু গুরুতর ঘাটতিকে প্রকাশ্যে এনেছে, যা দ্রুত সমাধান করা জরুরি।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ফেরিতে যাত্রী সংখ্যা সংক্রান্ত অনিয়ম খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে। নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।