চট্টগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পাহাড় ধসের সতর্কতা
চট্টগ্রাম ব্যুরো: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণে ডুবে গেছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের একাধিক নিম্নাঞ্চল। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট ২০২৬) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ পথচারী ও নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষ।
রেকর্ড বৃষ্টিপাত ও পাহাড় ধসের ঝুঁকি
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া কর্মকর্তা মো. ইসমাইল ভূঁইয়া জানান, সোমবার সকাল থেকে ১০৯ মিলিমিটার এবং গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীতে সর্বমোট ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অতি ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়গুলোতে মারাত্মক ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় অবস্থানরত বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদে সরে যেতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
প্লাবিত এলাকা ও প্রকল্পের অগ্রগতি
বৃষ্টির পানিতে নগরীর নিম্নাঞ্চলসহ একাধিক প্রধান সড়ক জলমগ্ন হয়ে পড়েছে:
জলমগ্ন এলাকা: চকবাজার, কাতালগঞ্জ, রিয়াজউদ্দিন বাজার এবং আগ্রাবাদের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়ক ও অলিগলি।
মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের প্রকল্প পরিচালক কর্নেল মো. মহসিনুল হক চৌধুরী জানান, নদী ও খালের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রায় ৯৮ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে নগরীর ৮০ ভাগ এলাকাই জলজটমুক্ত রয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাকি ২ শতাংশ কাজ শেষ হলে শহরের অবশিষ্ট সমস্যাটুকুও নিরসন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মেগা প্রকল্পেও কাটেনি স্থায়ী ভোগান্তি
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে ১০ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
তবে প্রায় এক দশক ধরে চলা এসব বিপুল বাজেটের মেগা প্রকল্পের পরও বর্ষা এলেই নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার শিকার হতে হওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।