ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ এর উদ্বোধন
নিউজ ডেস্ক: মহাসড়কে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ, দুর্ঘটনা হ্রাস এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’।
আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬) সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওস্থ মেঘনাঘাটে অবস্থিত হাইওয়ে পুলিশের ‘কমান্ড, কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টার’-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রযুক্তি ব্যবস্থার শুভ উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এআই ট্রাফিক ব্যবস্থার মূল ফিচার ও কার্যপ্রণালী
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে মহাসড়কের ৪৯০টি পিলারে সর্বাধুনিক এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
অপরাধ শনাক্তকরণ: নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম (ওভারস্পিড), বিপজ্জনক ওভারটেকিং, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক সাইন অমান্য করা এবং অবৈধ পার্কিং এই ক্যামেরায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড ও শনাক্ত হবে।
স্বয়ংসক্রিয় ই-ফাইনিং ও মেসেজ: অপরাধ শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথে তথ্য সরাসরি বিআরটিএ (BRTA)-র ডেটাবেজে চলে যাবে এবং স্বয়ংক্রিয় সংকেতের মাধ্যমে গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইলে মামলার বিবরণসহ এসএমএস পৌঁছে যাবে।
ঘরে বসেই জরিমানা পরিশোধ: খবর পাওয়ার পর যানবাহনের মালিকরা তাঁদের সুবিধাজনক যেকোনো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS)-এর মাধ্যমে ঘরে বসেই জরিমানার অর্থ জমা দিতে পারবেন।
রেজিস্ট্রেশন বাতিল: বারবার আইন লঙ্ঘন করলে বিআরটিএ-র বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাঁদাবাজি রোধ ও অবৈধ যান চালনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর বার্তা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “হাইওয়ে পুলিশের এই পদক্ষেপে মহাসড়কের সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাফল্য মূল্যায়ন করে পর্যায়ক্রমে দেশের সব মহাসড়কে এই স্বয়ংক্রিয় এআই প্রযুক্তি চালু করা হবে।”
মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা বন্ধে তাঁর মূল নির্দেশনাসমূহ:
চাঁদাবাজিমুক্ত মহাসড়ক: মালিক, শ্রমিক ফেডারেশন কিংবা পুলিশ—যার মাধ্যমেই হোক না কেন, মহাসড়কে সব ধরনের অনিয়ম ও চাঁদাবাজির দৃশ্য এআই ক্যামেরায় রেকর্ড হিসেবে থাকবে। ফলে এই অপরাধ বন্ধ করা সহজ হবে।
অবৈধ থ্রি-হুইলার নিয়ন্ত্রণ: মহাসড়কে অননুমোদিত বা লাইসেন্সহীন থ্রি-হুইলার এবং নন-মোটরাইজড যান চলাচল করতে দেওয়া হবে না। তবে ফিডার রোড ব্যবহার ও সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়ার বিষয়টি শৃঙ্খলার সাথে সমন্বয় করার জন্য হাইওয়ে পুলিশ প্রধানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ
হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও এডিশনাল আইজি ফারুক আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস MP: সভাপতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন
আজহারুল ইসলাম মান্নান MP: জাতীয় সংসদ সদস্য, নারায়ণগঞ্জ-৩
মোঃ আলী হোসেন ফকির: ইনস্পেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি)
অনুষ্ঠানে প্রযুক্তিভিত্তিক এই উদ্যোগকে সফল করতে হাইওয়ে পুলিশ, বিআরটিএ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।