সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে নাম ধরে ডাকায় বিধানসভায় ক্ষমা চাইলেন বিজয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তামিলনাড়ু বিধানসভায় প্রয়াত সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ডিএমকে-র কিংবদন্তি নেতা এম করুণানিধিকে কোনো প্রথাগত সম্মানসূচক উপাধি ছাড়া সরাসরি নাম ধরে ডাকায় দুঃখ প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়।

গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট ২০২৬) রাজ্য সরকারের বনমন্ত্রীর দেওয়া এক বক্তব্য ঘিরে বিরোধী দল ডিএমকে শিষ্টাচার ভঙ্গের প্রতিবাদ জানালে মুখ্যমন্ত্রী পরিস্থিতি সামাল দিতে নিজেই ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এই সংবাদটি নিশ্চিত করেছে।

কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত?
ঘটনাটি ঘটে বিধানসভায় স্বাস্থ্য ও রাজস্ব বিভাগের বাজেট অনুদান সংক্রান্ত এক উত্তপ্ত বিতর্কের সময়:

অভিযোগের তির: তামিলনাড়ুর বনমন্ত্রী আরভি রঞ্জিত কুমার বিধানসভায় বক্তব্য রাখার সময় অতীতের নির্বাচনের ‘ভোটের বদলে টাকা’ দেওয়ার অপসংস্কৃতি ও বহুল আলোচিত ‘তিরুমঙ্গলম ফর্মুলা’র সমালোচনা করছিলেন।

বিচ্যুতি: তিনি দাবি করেন, তাঁর কাঞ্চিপুরম আসনে প্রতি ভোটের জন্য অতীতে দেড় হাজার রুপি পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছিল। সেই নির্বাচনী কারচুপির ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে প্রয়াত নেতা করুণানিধিকে ‘কালাইঙ্গার’ (শিল্পস্রষ্টা) কিংবা ‘সাবেক মুখ্যমন্ত্রী’ উপাধি না দিয়ে কেবল সরাসরি ‘করুণানিধি’ বলে সম্বোধন করেন।

ডিএমকের প্রতিবাদ ও মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা
প্রথা অনুযায়ী তামিলনাড়ু বিধানসভায় প্রবীণ ও সম্মানিত নেতাদের নাম নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রোটোকল ও সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার বাধ্যতামূলক।

শব্দটি উচ্চারণের সাথে সাথেই সাবেক মন্ত্রী কেকেএসএসআর রামচন্দ্রনের নেতৃত্বে ডিএমকে সদস্যরা দাঁড়িয়ে চরম ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেন। সভাকক্ষে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ৫২ বছর বয়সী অভিনেতা থেকে রাজনৈতিক দলে আসা মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় তৎক্ষণাৎ নিজের মন্ত্রীকে থামিয়ে দেন।

মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বলেন, “প্রয়াত সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে যেভাবে সম্বোধন করা হয়েছে তা অনুচিত ছিল। আমি আমার মন্ত্রীর পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”

মুখ্যমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক এবং আগাম ক্ষমা প্রার্থনার পর বিরোধী দল ডিএমকের হট্টগোল শান্ত হয় এবং বিধানসভার কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসে।



Leave a Comment