অন্তর্বর্তী সমঝোতার মেয়াদ শেষ: ইরানকে আত্মসমর্পণের তাগিদ ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত ৬০ দিনের অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) সময়সীমা শেষ হলেও তা আর না বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে নতুন চুক্তির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তিনি ইরানকে ‘সাদা পতাকা’ তুলে পূর্ণ আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন।
একইসঙ্গে কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের “পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ” রয়েছে বলে দাবি করার পাশাপাশি, বিষয়টি নিয়ে ইরানের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমানকে কঠোর সামরিক হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। এর আগে গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এবং পরবর্তীতে মার্কিন গণমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ’-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
সমঝোতা চুক্তি ও ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান
গত জুনে অর্জিত ৬০ দিন মেয়াদী সমঝোতার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত হ্রাস করে দীর্ঘমেয়াদী শান্তির পথ তৈরি করা। তবে সেই মেয়াদ শেষ হওয়া প্রসঙ্গে ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, “ইরানের উচিত এবার আত্মসমর্পণের সাদা পতাকা তোলা। তারা হয়তো ভালো পোকার খেলোয়াড়, কিন্তু বর্তমানে অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপে তাদের চরম অবস্থা।”
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে চরম সংকটে রয়েছে, যেখানে মূল্যস্ফীতি ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে এবং তাদের সামরিক শক্তি ধসে পড়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো নির্ধারিত সময়সীমা বা তাড়া নেই উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, ইসলামিক রিভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি পরোক্ষ চ্যানেল চালু রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ও ওমানকে সামরিক হুমকি
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ বিষয়ে মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল রাখার কথা জানিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, পুরো প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন মার্কিন বাহিনীর হাতে। এমনকি ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড’ হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনার কথাও পুনরাবৃত্তি করেন তিনি।
অন্যদিকে, অবরুদ্ধ এই প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান ও ওমান যৌথভাবে বিকল্প সমুদ্রপথ বা ‘ন্যাভিগেশন রুট ম্যাপ’ তৈরি করতে আলোচনা চালাচ্ছে। ওমানের এই মধ্যস্থতায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, “ওমান যদি আমাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে আমরা তাদের ওপর ব্যাপক বোমাবর্ষণ করব।”
তেহরানের প্রতিক্রিয়া ও সামরিক কৌশল বদল
মার্কিন রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্য ও হুমকির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পরোক্ষ কূটনৈতিক প্রতিনিধি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করেছে এবং নৌ-অবরোধ সৃষ্টি করে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়িয়েছে।
ইরানি প্রতিরক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্থায়ী চুক্তি নিয়ে আলোচনা অকার্যকর হওয়ায় ইরান এখন থেকে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অবস্থান ছেড়ে ‘পূর্ণাঙ্গ আক্রমণাত্মক’ (Fully Offensive) সামরিক কৌশল নীতি গ্রহণ করতে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক তেল বাজারে বড় ধরনের মন্দা ও বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের তীব্র শঙ্কা দেখা দিয়েছে।