সরকার একতরফা সংসদ চালাচ্ছে: ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধীদলের ওয়াকআউট
জাতীয় সংসদ প্রতিবেদক: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা এবং বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটসহ জনদুর্ভোগের মতো জাতীয় ইস্যুগুলোতে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ তুলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনেই ওয়াকআউট করেছে বিরোধীদল।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬) রাত ৮টার দিকে সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসে মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বক্তব্য শেষে দলীয় সদস্যদের নিয়ে সংসদ কক্ষ ত্যাগ (ওয়াকআউট) করেন।
বিরোধীদলীয় নেতার অভিযোগ ও বক্তব্যের মূল পয়েন্ট
সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান যেসব বিষয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন:
জনদুর্ভোগ ও জরুরি নোটিশ উপেক্ষা: তিনি জানান, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, তীব্র লোডশেডিং, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। এসব জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য বিশেষ অধিবেশনের আবেদন করা হলেও তা রাখা হয়নি। পাশাপাশি বিরোধীদের উত্থাপিত চারটি জরুরি নোটিশও সুযোগ পায়নি।
শিল্প ও শ্রমখাতে ধস: জ্বালানি সংকটে শত শত কলকারখানা বন্ধ হয়ে মালিক ও লাখ লাখ শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সংসদে সরকারের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই বলে দাবি করেন তিনি।
গণভোট ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে অনীহা: গণভোটে জনগণের দেওয়া সংস্কারের রায়কে সরকার উপেক্ষা করছে বলে অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও পুলিশ সংস্কার এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সরকারের পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
কার্যপ্রণালী বিধি লঙ্ঘন: বৃহস্পতিবার দিনটি ‘বেসরকারি সদস্য দিবস’ (Private Members’ Day) হওয়া সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে সরকারি বিল উত্থাপন করায় আপত্তি জানান তিনি।
ওয়াকআউটের ঘোষণা
সংসদে বক্তব্য শেষ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “জনগণের পক্ষে কথা বলার সুযোগ না পেয়ে এবং সংসদকে একতরফাভাবে পরিচালনার এই প্রক্রিয়ার অংশ না হতে আমরা এই অধিবেশন থেকে বিদায় নিচ্ছি। আমরা ওয়াকআউট করছি। জনস্বার্থে জমা দেওয়া নোটিশগুলো আলোর মুখ দেখলে এবং আলোচনার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে আমরা পুনরায় সংসদে ফিরব।”
তার এই ঘোষণার পরপরই বিরোধী জোটের সব সংসদ সদস্য অধিবেশন কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।