জন অধিকার নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা করলে পালানোর পথ পাবেন না: ডা. শফিকুর রহমান
ফেনী প্রতিনিধি: ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যাত্রা বিরতি ও কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু ফেনীর মহীপালে এসে দাঁড়িয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যের দীর্ঘ বহর। ফেনীর বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার কঠোর তাগিদ দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের দাবি উপেক্ষা করে প্রতারণা অব্যাহত রাখলে বিগত স্বৈরাচারী শাসকদের মতো এই সরকারকেও শেষ পর্যন্ত দেশ ছেড়ে পালাতে হবে।
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে ফেনীর মহীপালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওভারপাস এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশাল পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমীরের কড়া বক্তব্য ও রাজপথের প্রস্তুতি
মহীপালের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান সংকট ও জামায়াতের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেন:
আওয়ামী লীগ ও শরিকদের পালিয়ে যাওয়ার ইতিহাস: ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সরকার বারবার জনদাবি উপেক্ষা করে মানুষের সাথে সরাসরি প্রতারণা করছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, দেশের যেকোনো চরম সংকটকালে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো কর্মীদের বিপদে ফেলে বিদেশে পালিয়ে যায়। একমাত্র জামায়াতে ইসলামী কোনোদিন সংকটকালে দেশকে এবং জনগণকে ছেড়ে পালিয়ে যায়নি।”
নতুন করে জীবনের ঝুঁকির আহ্বান: জন অধিকার ও সুশাসন নিয়ে সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার তীব্র সমালোচনা করে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, বিরোধী দল দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় দেবে না। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং সুশাসন ফিরিয়ে আনতে সবাইকে আবারও নতুন করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নামার সর্বাত্মক প্রস্তুতি রাখতে হবে।
নাহিদ ইসলামের পাল্টা আঘাতের নির্দেশ ও চূড়ান্ত ঘোষণার হুঁশিয়ারি
পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি সরকারের উদ্দেশ্যে চরম কঠোর বার্তা প্রদান করেন:
আঘাত আসলে পাল্টা আঘাত: রাজপথে বাধা বা আক্রমণ এলে ছাড় দেওয়া হবে না ঘোষণা দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আন্দোলনরত কর্মীদের ওপর যদি কোনো ধরনের আঘাত আসে, তবে সাথে সাথে পাল্টা আঘাত হানতে সবাইকে রাজপথে প্রস্তুত থাকতে হবে।”
ঢাকার মহাসমাবেশ ও ৬ দফা দাবি: তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ঢাকা থেকে শীঘ্রই আয়োজিত হতে যাওয়া মহাসমাবেশ থেকেই জোটের চূড়ান্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ঘোষণা দেওয়া হবে। তবে সরকারের জন্য সুযোগ রেখে তিনি বলেন— ঢাকার সেই চূড়ান্ত ঘোষণার আগেই যদি সরকার বিরোধী জোটের ৬ দফা দাবি মেনে নেয়, তবে বিরোধী দল তাদের কঠোর রাজপথের কর্মসূচি থেকে সরে আসবে।
মহীপালের এই সফল পথসভা শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের সুসজ্জিত বহরটি চট্টগ্রামের মীরসরাই এবং সমাপনী স্থান ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানের জনসভার উদ্দেশ্যে ফেনী ত্যাগ করে।