নারায়ণগঞ্জে নৌ-পুলিশ কর্মকর্তার মদ্যপ অবস্থায় মাতলামির ভিডিও ভাইরাল
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের বন্দর ঘাট এলাকায় মধ্যরাতে নৌ পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় অসংলগ্ন আচরণ ও মাতলামি করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ওই পুলিশ কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নৌ পুলিশের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের নাম আব্দুল মান্নান এবং তিনি নারায়ণগঞ্জে নৌ পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পদে কর্মরত আছেন।
ঘটনার বিবরণ ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিও
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় অধিবাসীদের বিবরণ অনুযায়ী যা ঘটেছে:
বন্দর ঘাটে অসংলগ্ন আচরণ: গতকাল শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জ বন্দর ঘাট এলাকায় এএসআই আব্দুল মান্নান অতিরিক্ত মদ্যপ বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। তিনি উপস্থিত সাধারণ মানুষদের প্রতি চেঁচামেচি করেন এবং পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকেন।
ভিডিও ধারণ ও ভাইরাল: ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী তাঁর এই অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের দৃশ্য ভিডিও চিত্রে ধারণ করেন। পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
পুলিশের বক্তব্য ও অবস্থান
ঘটনাটি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসার পর নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে:
পারিবারিক কলহের দাবি: নৌ পুলিশের সদর থানার ওসি রফিকুজ্জামান জানান, এএসআই আব্দুল মান্নানের সাথে তাঁর স্ত্রীর পারিবারিক কলহ চলছিল। স্ত্রীর সাথে তুমুল বাগবিতণ্ডার জের ধরে তিনি মানসিকভাবে উত্তেজিত হয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন।
মদ্যপানের বিষয়টি তদন্তাধীন: কর্মকর্তাটি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, এখন পর্যন্ত তিনি মদপান করেছিলেন কি না তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি। তবে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে এবং তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে আইনি ও বিভাগীয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের বিষয়ে এএসআই আব্দুল মান্নানের সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিভাগীয় তদন্ত শেষ হলেই ঘটনার প্রকৃত কারণ উন্মোচিত হবে।