আমার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সেলিম: দ্য ওয়ালকে সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা

September 7, 2026 | Feature-2 |

নিউজ ডেস্ক: ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’-কে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে দল পরিচালনা, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভারতের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক ও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন দলের জ্যেষ্ঠ প্রেসিডেনসিয়াল সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারের সাথে দীর্ঘ কথোপকথনে তিনি নিজের নিরাপত্তা, দেশে ফেরার পরিকল্পনা এবং আঞ্চলিক রাজনীতির নানা দিক তুলে ধরেন।

দলীয় নেতৃত্ব ও দেশে ফেরার আশঙ্কা

আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব: “আমার অনুপস্থিতিতে শেখ সেলিমই সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন, কারণ তিনি এখন সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য।” এ সময় ছোট বোন শেখ রেহানা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, রেহানা সরাসরি রাজনীতির সাথে যুক্ত নন।

ডিসেম্বরে ফেরার পরিকল্পনা ও জীবনের ঝুঁকি: আগামী ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার আশাবাদ ব্যক্ত করার পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেই তাঁকে হত্যার চক্রান্ত হতে পারে। তাঁর উপস্থিতির কারণে অন্য কারও জীবন যেন বিপন্ন না হয়, সে বিষয়টি তিনি বিবেচনায় রাখছেন।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভারতের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য

জঙ্গিবাদের উত্থান ও ভারতের ওপর প্রভাব: বাংলাদেশে উগ্রপন্থী ও জঙ্গিবাদী শক্তির উত্থান ঘটছে দাবি করে শেখ হাসিনা সতর্ক করেন, “বাংলাদেশে এই ধরনের মৌলবাদী শক্তির বিস্তার কেবল দেশের ভেতর সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর খেসারত পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতকেও দিতে হবে।”

ভারতের নীতি নিয়ে প্রশ্ন: বর্তমান প্রেক্ষাপটে নয়া দিল্লির কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ভারত সরকার কী হিসাব বিবেচনা করে বাংলাদেশের নির্বাচনকে সমর্থন জানাল এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনল—সেটি ভারত সরকারই ভালো বলতে পারবে।

সমালোচনা ও দ্বিপক্ষীয় রাজনীতি: বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অতীতের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি নিজে বিদেশে থেকে রাজনীতি পরিচালনা করতে পারলে, দিল্লি থেকে বক্তব্য দেওয়া নিয়ে সমালোচনা হওয়া সমীচীন নয়।

সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমার দেশ ধ্বংসের পথে যেতে দেখে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।” তবে কোনো সামরিক জোটের পরিবর্তে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ ও কৌশলগত আস্থার ওপর ভিত্তি করেই দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।



Leave a Comment