ভাঙ্গায় বাস-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষ: মাদ্রাসা শিক্ষক ও ইমাম নিহত

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহত দুইজন পেশায় যথাক্রমে একজন মাদ্রাসা শিক্ষক ও একজন মসজিদের ইমাম ছিলেন বলে জানা গেছে।

গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত ১০টার দিকে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের বাবনাতলা ব্রিজের সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের পরিচয় ও দুর্ঘটনার বিবরণ

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে:নিহতদের পরিচয়: নিহতরা হলেন পটুয়াখালী জেলার সুমখালী এলাকার আব্দুর রবের ছেলে আনিসুর রহমান (২৮) এবং বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দিয়াশুর গ্রামের ফরিদ হাওলাদারের ছেলে সালাউদ্দিন (৩০)। আনিসুর রহমান একটি মাদ্রাসার শিক্ষক এবং সালাউদ্দিন একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন।

দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট: সোমবার রাতে আনিসুর ও সালাউদ্দিন মোটরসাইকেলযোগে ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে রাত ১০টার দিকে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের বাবনাতলা ব্রিজের কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ‘দশমিনা পরিবহন’-এর একটি দ্রুতগামী বাসের সঙ্গে তাঁদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

মৃত্যু ও উদ্ধার: সংঘর্ষে মোটরসাইকেলটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় এবং তাঁরা দুজনই মহাসড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।

আইনি ব্যবস্থা ও পুলিশের বক্তব্য

যানবাহন জব্দ ও মরদেহ উদ্ধার: ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী ওবায়দুল কবির দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে এবং দুর্ঘটনায় জড়িত ‘দশমিনা পরিবহন’-এর বাসটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।

চালকদের খোঁজ: দুর্ঘটনার পরপরই বাস ছেড়ে চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। তাঁদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।



Leave a Comment