মার্কিন হামলায় ইরানি ট্যাংকার ধ্বংস, জবাবে জর্ডানে মিসাইল হামলা

September 9, 2026 | Feature-2 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আক্রমণের চেষ্টার কড়া জবাব হিসেবে ইরানের মোট পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানের পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র জর্ডানে দফায় দফায় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান।

আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে ইরানের তেল ট্যাংকারে হামলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। বার্তা সংস্থা সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।

ট্যাংকার ধ্বংস ও সমুদ্রসীমার সামরিক পরিস্থিতি

মার্কিন জাহাজে আক্রমণের চেষ্টা: সেন্টকম জানিয়েছে, গত দুই দিনে ইরানের সামরিক বাহিনী মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে দুবার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের চেষ্টা চালায়। তবে মার্কিন জাহাজগুলো সফলভাবে আঘাত এড়াতে সমর্থ হয়।

ওমান ও পারস্য উপসাগরে হামলা: পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ওমান উপসাগরে চারটি এবং পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপের কাছে একটিসহ মোট পাঁচটি ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সেন্টকম দাবি করেছে, সামরিক আঘাত হানার আগে জাহাজের কর্মীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার পূর্ব-সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি: বর্তমানে কলম্বিয়া সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ব্যারাঙ্কুলা শহরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ইরান ক্রমাগত মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে আঘাত হানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তেহরান যতবারই মার্কিন জাহাজে হামলার দুঃসাহস দেখাবে, ততবারই তাদের নিজেদের তেল ট্যাংকার ধ্বংসের মুখোমুখি হতে হবে।

জর্ডানে পাল্টা হামলা ও জিসিসি অঞ্চলে আইআরজিসির আল্টিমেটাম

জর্ডানের বিমানঘাঁটিতে মিসাইল হামলা: যুক্তরাষ্ট্রের ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপের পর পরই জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত ‘মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি’ লক্ষ্য করে একযোগে ব্যালাস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করে ইরান। জর্ডান সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে, ইরানের ছোড়া ২০টি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি তারা আকাশে ধ্বংস করেছে এবং বাকি দুটি জনমানবহীন প্রান্তরে পতিত হয়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার হুমকি: ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত বিবৃতিতে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) কুয়েত ও বাহরাইন বন্দরের কাছে থাকা তেল ট্যাংকারগুলোতে হামলার তীব্র হুমকি দিয়েছে। আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরের কাছে নোঙ্গর করে থাকা তেল ট্যাংকারের কর্মীরা যেন অবিলম্বে জাহাজ ছেড়ে চলে যান; অন্যথায় ওসব জাহাজে সরাসরি মিসাইল হামলা চালানো হবে।

ইরানের বিমান খাতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা

নতুন অবরোধ আরোপ: তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বহুগুণ বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে দেশটির বিমান পরিবহন খাতের ওপর ব্যাপক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় সংস্থা: নতুন এই অবরোধের অংশ হিসেবে ইরানের মোট ২৭টি বিমান সংস্থা (এয়ারলাইন্স) এবং ৯টি বিমান পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার এই প্রত্যক্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকটের পূর্বাভাস দিচ্ছে।



Leave a Comment