ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাতের আঁধারে টর্চলাইট জ্বেলে ৪ ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সদরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে রাতের আঁধারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছেন দুই গ্রামের বাসিন্দারা। দেশীয় অস্ত্র ও টর্চলাইট জ্বালিয়ে চালানো চার ঘণ্টাব্যাপী এ দফায় দফায় সংঘর্ষে সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সহ উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

গতকাল বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত সরাইল সদরের মালিগাঁও ও সাগরদীঘি গ্রামের অধিবাসীদের মধ্যে এই সহিংস ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের সূত্রপাত ও পরিস্থিতির বিবরণ

বিরোধের কারণ: ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মালিগাঁও ও সাগরদীঘি গ্রামের কয়েকজন যুবকের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে তা দুই গ্রামের সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

রাতের আঁধারে সংঘর্ষ: রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উভয়পক্ষের শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র এবং টর্চলাইটের আলো জ্বালিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পুরো এলাকায় তীব্র ভয়াবহতা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

চিকিৎসা ও হতাহত: সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ নিশ্চিত করেছেন, রাত সাড়ে ৯টার মধ্যেই হাসপাতালে অন্তত ৩০ জন আহত অবস্থায় এসে প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা নিয়েছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা আহত ও শান্তিশৃঙ্খলার প্রচেষ্টা

এএসপি ও পুলিশের ওপর হামলা: সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশের ওপরও হামলা চালিয়েছে উত্তেজিত জনতা। এতে সরাইল সার্কেলের এএসপি পায়ে ইটের আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন।

মাইকিং করে পরিস্থিতি সামাল: সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার মাস্টারের নেতৃত্বে স্থানীয় নেতাকর্মীদের এলাকা জুড়ে মাইকিং করে দুই পক্ষকে সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাতে দেখা যায়।

বর্তমান অবস্থা: রাত ১০টার দিকে পুলিশি তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এলাকায় নতুন করে সহিংসতা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ কঠোর টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



Leave a Comment