মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যুদণ্ড
নিউজ ডেস্ক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার দায়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগের শীর্ষ নেতাসহ পলাতক মোট ৭ আসামির সকলকেই মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর সোয়া ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল ২০০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের নির্যাস পাঠ করে এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনাল প্যানেলের অপর দুই বিচারক সদস্য হলেন— বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৭ আসামির তালিকা
রায় অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত সকল আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন:
১. ওবায়দুল কাদের — সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ)।
২. আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম — যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
৩. মোহাম্মদ আলী আরাফাত — সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী।
৪. শেখ ফজলে শামস পরশ — সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ।
৫. মাইনুল হোসেন খান নিখিল — সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ।
৬. সাদ্দাম হোসেন — সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (নিষিদ্ধ ঘোষিত)।
৭. শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান — সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (নিষিদ্ধ ঘোষিত)।
বিচারিক পর্যবেক্ষণ ও রায়ের মূল ভিত্তি
‘শুট অ্যাট সাইট’ ও জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ: ট্রাইব্যুনাল তার রায়ে উল্লেখ করেন, আন্দোলন দমনে সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া সরাসরি ‘দেখামাত্র গুলি’ (শুট অ্যাট সাইট) নির্দেশ এবং শীর্ষ নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে সারা দেশে নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের সশস্ত্র ক্যাডাররা। ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’ (যৌথ অপরাধ পরিচালনা নীতি) অনুযায়ী অভিযুক্তরা সমান অপরাধে অপরাধী।
চারটি অভিযোগই প্রমাণিত: প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা চারটি মানবতাবিরোধী অপরাধের (অস্ত্র সরবরাহ, উসকানি, হত্যা ও ষড়যন্ত্র) সবকটিই অকাট্য দালিলিক প্রমাণ ও ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
অনুকম্পা প্রদর্শনের সুযোগ নেই: ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করে জানান, নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার হত্যাকাণ্ড চালিয়ে আসামিরা যে জঘন্য মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন, তার জন্য কোনো অনুকম্পা দেখানোর আইনি সুযোগ নেই। ফলে তাদের প্রত্যেককে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হলো।
আইনি প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীদের প্রাথমিক বক্তব্য:
চিফ প্রসিকিউটরের সন্তোষ: রায়ের পর এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে জুলাইয়ের শহীদ ও তাঁদের পরিবার ন্যায়বিচার পেল। পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করতে কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।”
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশ: আসামিগণ পলাতক থাকায় তারা নিজ নিজ গ্রেফতারের দিন থেকে অথবা আদালতে আত্মসমর্পণের পর থেকে এই সাজা কার্যকর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাদের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতারের নির্দেশও দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।