মুরাদনগরে জমি বিরোধে আপন বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা

নিউজ ডেস্ক: কুমিল্লার মুরাদনগরে পৈতৃক জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে আপন বোন ও ভাতিজাকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার মর্মান্তিক অভিযোগ উঠেছে মোস্তাক আহমেদ ওরফে আবু মিয়া (৫৬) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের দড়ানীপাড়া গ্রামে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহতদের পরিচয়

খালেদা আক্তার বেবি (৭০), পিতা: মৃত মনির হোসেন, গ্রাম: দড়ানীপাড়া। তিনি দেবিদ্বার উপজেলার খাদঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা ছিলেন।

মঞ্জুরুল আলম ওরফে তোতু (৪০), পিতা: সেলিম মিয়া, গ্রাম: দড়ানীপাড়া (নিহত খালেদা আক্তারের ভাতিজা)।

ঘটনার বিবরণ ও হাসপাতালে মৃত্যু

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, পৈতৃক সম্পত্তি ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ওই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র কোন্দল চলছিল।

গত সোমবার সন্ধ্যায় এই বিরোধের জেরে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মোস্তাক আহমেদ ওরফে আবু মিয়া ঘর থেকে ধারালো দা এনে আপন বোন খালেদা আক্তার ও ভাতিজা মঞ্জুরুল আলমের ওপর সশস্ত্র হামলা চালান। ধারালো অস্ত্রের কোপে দুজনই রক্তাত্ব হয়ে গুরুতর আহত হন।

চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রতিবেশী দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

স্বজনদের বক্তব্য ও পুলিশি ব্যবস্থা

স্বজনদের অভিযোগ: নিহত মঞ্জুরুল আলমের শাশুড়ি জোসনা বেগম এবং নিকটাত্মীয় মো. শফিকুল ইসলাম জানান, পুরানো জমিজমা সংক্রান্ত শত্রুতা থেকেই এই রক্তক্ষয়ী পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য: মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মূলতঃ জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক কোন্দলেই এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্ত আবু মিয়াসহ সহযোগীদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করেছে। এ ঘটনায় মুরাদনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



Leave a Comment