সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাপট না দেখিয়ে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান ১১ দলীয় ঐক্যের
নিউজ ডেস্ক: সংবিধান সংশোধন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং নানা আইনি পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের চাহিদার বিরুদ্ধে না যেতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। জোটটির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অতীতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাপট দেখাতে গিয়েই অনেকে কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী পথ বেছে নিয়েছিলেন; তাই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারকে সেই অবস্থান থেকে ফিরে আসতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও সরকারের সমালোচনার পয়েন্ট
গণভোটের রায় ও সংবিধান সংশোধন: গণভোটে দেওয়া ৭০ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট বা জনগণের রায় প্রত্যাখ্যান করে একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া গ্রহণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ১১ দলীয় ঐক্য। সরকারঘোষিত এই প্রক্রিয়া ও বিশেষ কমিটির কাজকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আইন সংশোধন নিয়ে ক্ষোভ: সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাপটে কোরআন-সুন্নাহর আইন পরিবর্তন করে হেবা আইনে হস্তক্ষেপ এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করা হয়।
আন্দোলনের রূপরেখা: উত্থাপিত সাত দফা দাবি আদায় এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে চলমান রাজনৈতিক আন্দোলনকে আরও বেগবান ও জনসম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চের বিস্তারিত রুট ও সূচি
উদ্বোধনী সমাবেশ: শনিবার সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী জনসভা শেষে রংপুরের উদ্দেশে গাড়িবহর যাত্রা শুরু করবে।
পথসভার স্থানসমূহ: যাত্রাপথে মোট ৫টি স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে—
১. গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস
২. টাঙ্গাইলের জালফৈ বাইপাস মোড়
৩. সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড় (দুপুর ১২টা–১২:৩০টার মধ্যে পৌঁছানো ও জোহরের নামাজ আদায়)
৪. বগুড়ার মাটিডালি
৫. গাইবান্ধার পলাশবাড়ী (সন্ধ্যায়)
সমাপনী সমাবেশ: পথসভা শেষে রংপুরের ঐতিহ্যবাহী জিলা স্কুল মাঠে বিশাল সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ শেষ হবে।
কর্মসূচি ও নিরাপত্তার সার্বিক প্রস্তুতি
লংমার্চের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় জোটের অবস্থান:
গাড়িবহর ও প্রস্তুতি: নিজ নিজ জেলার গাড়িবহর মূল বহরের পেছনে যুক্ত হবে। বহরে নিরাপত্তা, অ্যাম্বুলেন্স, মেডিকেল, মিডিয়া ও সাউন্ড বিভাগের ৮-৯টি বিশেষ গাড়ি থাকবে। অংশগ্রহণকারীদের নিজ দায়িত্বে খাবার ও পানি সঙ্গে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শান্তিপূর্ণ নিশ্চিতকরণ: গোলাম পরওয়ার স্পষ্ট জানান, তাদের কর্মসূচি হবে সম্পূর্ণ সহিংসতামুক্ত, নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ। কর্মসূচিতে পুলিশ, ট্রাফিক, সিভিল সোসাইটি ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।