কুবি শিক্ষকের সন্তান অপ্রতিম হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-কুমিল্লা সংযোগ মহাসড়ক অবরোধ
কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার সুনিশ্চিত করার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কোটবাড়ি এলাকার মূল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন শুরু করে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও মহাসড়কের বর্তমান পরিস্থিতি
মহাসড়ক অবরোধ ও স্লোগান: বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটবাড়ি মোড়ে মহাসড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেয়। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার, সঠিক তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।
যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন: অবরোধের ফলে ওই সড়কে ক্ষণিকের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
পুলিশ মোতায়েন: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানাজা, দাফন ও নিখোঁজের বিবরণ
জোড়া জানাজা ও দাফন সম্পন্ন: বিক্ষোভ শুরুর আগেই আজ সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা ১১টায় কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে নিকটস্থ গোরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
নিখোঁজ ও লাশ উদ্ধার: শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম। প্রায় ২১ ঘণ্টা অনুসন্ধানের পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গল থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
ময়নাতদন্ত ও স্বজনদের প্রতিক্রিয়া: ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের আলামত নিশ্চিত করেছেন। প্রিয় একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তার মা ড. নাহিদা বেগম।
পুলিশ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে মামলার সুনির্দিষ্ট ক্লু পাওয়া গেছে এবং সন্দেহভাজন হিসেবে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। তদন্ত শেষেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উন্মোচিত হবে।