চোখের পানিতে চিরনিদ্রায় অপ্রতিম; কোটবাড়ির গন্ধমতি গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন
কুমিল্লা প্রতিনিধি: মা-বাবার বুকফাটা আর্তনাদ, স্বজন-প্রতিবেশী এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চোখের পানিতে শেষ বিদায় গ্রহণ করল নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ১৩ বছর বয়সী কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলো কুমিল্লা বর্ডার গার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী।
আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে দ্বিতীয় জানাজা শেষে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জানাজা ও দাফনের বিবরণ
দুটি জানাজা অনুষ্ঠিত: আজ সকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতীমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও স্থানীয় অধিবাসীরা সেখানে উপস্থিত থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এরপর গন্ধমতি স্কুল মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
গন্ধমতি গোরস্থানে দাফন: দ্বিতীয় জানাজা শেষে কোটবাড়ির গন্ধমতি গোরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
স্বজনদের বক্তব্য: জানাজার পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে স্বজন ও প্রতিবেশীরা কান্নাভেজা কণ্ঠে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তারা অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার এবং সার্বিকভাবে শিশুদের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানান।
আইফোন উদ্ধার ও অভিযুক্তের পরিবারের প্রতিক্রিয়া
আইফোন উদ্ধার: অপ্রতীম বাসা থেকে বের হওয়ার সময় সাথে নিয়ে যাওয়া তার মায়ের দামি আইফোনটি আটককৃত প্রধান সন্দেহভাজন তরুণ তুহিনের বাসা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তুহিনের মায়ের প্রতিক্রিয়া: তুহিনের বাসা থেকে আইফোন উদ্ধারের সত্যতা স্বীকার করেছেন তাঁর মা। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, অপ্রতীমের পরিবারের মর্মান্তিক এই ক্ষতিতে তারাও গভীরভাবে ব্যথিত এবং এই ঘটনার পেছনে যে বা যারাই যুক্ত থাকুক না কেন, তিনিও তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার চান।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। গতকাল শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের জঙ্গল থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামে তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে রেখে জেরা করা হচ্ছে।