ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের ভয়াবহ আন্দোলন

October 1, 2026 | Feature-2 |

নিউজ ডেস্ক: অতিরিক্ত ঠাসা শ্রেণিকক্ষ, ক্লাসে ধারণক্ষমতার বেশি শিক্ষার্থী, শিক্ষকের তীব্র সংকট এবং জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের দাবিতে ফ্রান্সে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্র রূপ নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন শহরে স্কুলের সামনে অগ্নিকাণ্ড, সহিংসতা ও পথ অবরোধের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির বরাতে জানা গেছে, আন্দোলনের মুখে ১৬০টিরও বেশি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও বিক্ষোভ দমনে ইতোমধ্যে কয়েকশত শিক্ষার্থীকে পুলিশ গ্রেপ্তার বা আটক করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংহতি ও সরকারের কঠোর পদক্ষেপ

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংহতি: হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের (‘লিসে’) এই আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে প্যারিস ও মার্সেইসহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে আন্দোলন শুরু করেছেন সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা।

সরকারের উদ্বেগ ও মন্ত্রীদের সফর স্থগিত: ফরাসি সরকার এই বিক্ষোভকে ‘নগর সহিংসতা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লোকোর্নু বৃহস্পতিবার তাঁর মন্ত্রিসভার সকল মন্ত্রীর পূর্বনির্ধারিত দেশব্যাপী সরকারি সফর স্থগিত করার কঠোর নির্দেশ জারি করেছেন।

আন্দোলনের নেপথ্য কারণ ও পুলিশের ভূমিকা

আন্দোলনের মূল কারণ: গ্রীষ্মকালের তীব্র তাপদাহের সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ বা পর্যাপ্ত হিটিং ব্যবস্থার অভাব, জরাজীর্ণ ছাদ ভেঙে পড়া, শৌচাগার সংকট, সময়সূচির বিভ্রাট ও ফোন প্রতিরোধী পাউচে কোটি ইউরো ব্যয়ের বিপরীতে শিক্ষাখাতে বাজেট ঘাটতি থেকে এই অসন্তোষের সূচনা হয়।

পুলিশি টিয়ার গ্যাস ও তদন্ত: আন্দোলন দমনে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্ট্রাসবুর্গ, তুলুজ, লিলে ও নানতেস শহরগুলোতে ট্রাম ট্র্যাক অবরুদ্ধ করা ও ডাস্টবিনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিনটি স্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি বর্বরতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠায় ইন্টারনাল ইনভেস্টিগেশন বা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ।

রাজনৈতিক বিতর্ক: সরকার এই আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার জন্য উগ্র-বামপন্থি রাজনৈতিক দল ‘ফ্রান্স আনবাউড’ (এলএফআই)-কে দায়ী করলেও এলএফআই নেতা জ্যাঁ-লুক মেলেনশঁ অহিংস আন্দোলনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। প্রতিবেশী দেশ বেলজিয়ামের লিয়েজ শহরেও অনুরূপ বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।



Leave a Comment