হুথি আগ্রাসন ঠেকাতে সৌদিতে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত তুরস্ক ও পাকিস্তানের

October 6, 2026 | Feature-2 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় সৌদি আরবে দ্রুত সেনা মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তুরস্ক ও পাকিস্তান। তিন দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
​গতকাল সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) রিয়াদে অনুষ্ঠিত জরুরি শীর্ষ বৈঠকের পর প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে তিন দেশের প্রতিনিধি দল এই তথ্য নিশ্চিত করে।
​মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ও বৈঠকের মূল সিদ্ধান্ত
​
​মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি: গত আগস্ট মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির বিধান অনুযায়ী, সদস্য কোনো দেশ আক্রান্ত হলে পারস্পরিক সামরিক সহায়তা প্রদানে মিত্ররা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির দেশ তুরস্ক, পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের এই জোট আঞ্চলিক সুরক্ষায় নতুন মাত্রা এনেছে।
​নিরাপত্তা হুমকি ও সম্মিলিত সিদ্ধান্ত: রিয়াদের বৈঠকে মক্কা ও মদিনা নগরীকে লক্ষ্য করে চালানো সাম্প্রতিক হামলাগুলোর তীব্র নিন্দা জানানো হয়। বৈঠকে প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার ওপর যেকোনো হুমকি রুখে দিতে সম্মিলিত প্রতিরক্ষা চুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ হিসেবে দ্রুত সেনা পাঠানো হবে। তবে এসব বাহিনীর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে।
​ইয়েমেন সংকট ও চলমান পাল্টা অভিযান
​
​আগ্রাসনের প্রেক্ষাপট: গত জুলাই থেকে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ চরম আকার ধারণ করে। এরপর থেকেই সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামো, শহরাঞ্চল ও বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে আসছে হুথি বিদ্রোহীরা।
​সামরিক পাল্টা পদক্ষেপ: সেপ্টেম্বর মাসে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের হাত থেকে বেশ কিছু অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেয় বিদ্রোহীরা। এর জবাবে গত সোমবার থেকে সৌদি আরবের পূর্ণ সহায়তায় ইয়েমেন সরকার হুথিদের দখলে থাকা ভূখণ্ডগুলো পুনর্দখলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে।



Leave a Comment