ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় নিহত বেড়ে ২৮
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার সাম্প্রতিক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির একাধিক শহরে বেশ কয়েক দফায় চালিয়ে যাওয়া এই হামলায় বহু আবাসিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইভান ভিহিভস্কি নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) ইউক্রেনজুড়ে এই বিমান হামলা চালায় রুশ সামরিক বাহিনী বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
আবাসিক ভবন ধ্বংস: হামলায় সবচেয়ে মারাত্মক প্রাণহানি ঘটেছে উত্তর ইউক্রেনের চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকি শহরে। চেরনিহিভের গভর্নর ভিয়াচেস্লাভ চাউস জানান, একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে পাঁচতলা বিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবন পুরোপুরি ধসে পড়ে।
নিহত ও আহত: প্রিলুকিতে ভবন ধসের ঘটনায় ৫ শিশুসহ অন্তত ২০ জন বেসামরিক নাগরিকের নির্মম মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৫৫ জন। ধ্বংসস্তূপ সরাতে উদ্ধারকারী ও ক্রেন কাজ করছে এবং ওপরের তলাগুলো থেকে ১৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া: প্রিলুকিতে পরিচালিত এই আক্রমণকে রাশিয়ার চালানো অন্যতম ‘সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও নির্মম হামলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
কিয়েভ ও কৃষ্ণসাগরে হামলা: বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানী কিয়েভের শহরতলিতে একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষ্ণসাগরের ওডেসা বন্দরের দিকে যাওয়া সামরিক সরঞ্জামবাহী একটি জাহাজে সফল আঘাত হানার দাবি করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি বুলগেরিয়ার এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে ড্রোন হামলায় দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে কৃষ্ণসাগরে নৌ নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োতোভা।
ইইউ-এর বিশাল নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা: রাশিয়ার অব্যাহত হামলার জবাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কূটনীতিকেরা রাশিয়ার সামরিক শিল্প খাতকে লক্ষ্য করে নতুন ১ হাজার ৬৪৬টি নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করেছেন। ইইউ কূটনীতিকরা জানান, এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা অর্ধেকেরও বেশি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন চেইনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।