নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার; মৃত্যুর আগে বাবার মোবাইলে পাঠিয়েছিল লাইভ লোকেশন
নিউজ ডেস্ক: কুমিল্লায় রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের গলায় গামছা পেঁচানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের আগে রাত ১১টা ৪০ মিনিটে বাস থেকে নেমে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার নূরজাহান হোটেলের সামনে তার সর্বশেষ চলাচলের দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৮টার দিকে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার একটি পরিত্যক্ত ফসলি জমি থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। তারা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা শহরের রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিল।
গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় তাজমিন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, সে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যায় এবং পরদিন সেখান থেকে কুমিল্লা হয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।
গত ৭ অক্টোবর দুপুরে কক্সবাজার থেকে বাসে উঠে রাত ১১টা ৪০ মিনিটে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে তাজমিন।
পদুয়ার বাজার এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গোলাপি কামিজ ও জিন্স পরা তাজমিন হাতে মুঠোফোন নিয়ে একটি কনফেকশনারির দোকানির সঙ্গে কথা বলছে। পরবর্তীতে সেখান থেকে বের হয়ে সে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দিকে এগিয়ে যায়।
নিহত তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম জানান, বুধবার গভীর রাতে মেয়ের মোবাইল থেকে একটি বার্তা ও লাইভ লোকেশন পান তিনি। তাকে গিয়ে নিয়ে আসার আকুতি জানিয়েছিল মেয়েটি। তবে রাতে ঘুমিয়ে থাকায় তিনি বার্তাটি তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পারেননি। ভোরে ঘুম থেকে উঠে লোকেশন ধরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের নিথর দেহ দেখতে পান।
মরদেহ উদ্ধার ও জব্দকৃত আলামত: লালমাই উপজেলার জগতপুর উত্তরপাড়ার একটি ফসলি জমি থেকে তাজমিনের গলায় গামছা প্যাঁচানো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের অদূরেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। গাড়িটির ভেতরে থাকা একটি ভ্যানিটি ব্যাগ ও শার্ট মেয়ের বলে শনাক্ত করেছেন নিহত ছাত্রীর বাবা।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং আলামত যাচাই-বাছাই করে ক্লুলেস এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।