ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে আটক; রণক্ষেত্র রাজধানী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ডাকা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানী নয়াদিল্লি। দিল্লিতে অবতরণের পরপরই বিমান থেকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে সহ শীর্ষ নেতাদের আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে মুম্বাই থেকে আসা একটি বিমানে তারা দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানে থাকাকালীনই দক্ষিণ-পশ্চিম জেলা পুলিশের একটি দল বিমানে উঠে তাদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশ আগে থেকেই প্রচুর নারী পুলিশ সদস্যসহ বিমানবন্দরে অবস্থান করছিল। বিমান নামার পরপরই পুলিশ বিমানে উঠে অবস্থানরত অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে। এ সময় অন্যান্য সাধারণ যাত্রীদের কিছু সময়ের জন্য আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
আটক হওয়ার আগমুহূর্তে সিজেপি নেতারা সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) করেন। সেখানে দীপকে পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “গ্রেফতার হব জেনেই দিল্লিতে এসেছি, আমরা ভয় পাই না। তবে অন্তত বিমান থেকে নামা পর্যন্ত আপনারা অপেক্ষা করতে পারতেন।”
দীপকেদের আটকের পর সিজেপি থেকে এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ওপর পূর্বপরিকল্পিত হামলা’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়। সংগঠনটি তাদের নেতাকর্মীদের চলাফেরার স্বাধীনতা ক্ষুণ্নের অভিযোগ এনে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে।
দিল্লিতে বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার পথে এর আগেই গুরুগ্রামের বাসভবন থেকে বিখ্যাত ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে আটক করেছে পুলিশ। এ ছাড়াও সিজেপির আইনি পরামর্শক রত্না সিং এবং বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় অনলাইন মুখসহ এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ জনের বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে।
অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজীব চকসহ রাজধানীর প্রায় ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দিল্লিতে প্রবেশ ঠেকানোর জন্য সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নির্ধারিত দূরপাল্লার একাধিক এক্সপ্রেস ও মেল ট্রেন বাতিল করেছে রেলওয়ে।
দিল্লির বিভিন্ন স্থানে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে এবং যন্তর মন্তর সংলগ্ন এলাকায় মাইকিং চালিয়ে সাধারণ মানুষকে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি দিল্লির কেন্দ্রস্থলে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।