বিক্ষোভ দমাতে নজিরবিহীন ধরপাকড়: আইসা নেত্রী নেহা ও যোগেন্দ্র যাদব আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ঘিরে রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান টানটান উত্তেজনার মধ্যেই ময়দানে নেমেছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) নেত্রী নেহা বরা ও স্বরাজ ইন্ডিয়ার নেতা যোগেন্দ্র যাদব। যন্তর মন্তরে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার কারণে বিক্ষোভস্থল পরিবর্তন করে তারা নতুন স্থান হিসেবে ‘দিল্লি হাট’-এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন।

আজ শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) বেলা ১টার পর নেহা বরা ও যোগেন্দ্র যাদবের নেতৃত্বে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হলে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ওই মিছিল থেকে নেহা বরা ও যোগেন্দ্র যাদবকে আটক করে বাসে তোলে।

যন্তর মন্তর এলাকা পুলিশ পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রাখায় এবং কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলায় সিজেপি নেতাদের পূর্বের বার্তা অনুযায়ী নেহা বরা ঘোষণা দেন— “দিল্লি হাটই আজকের যন্তর মন্তর, আমরা আসছি।”

মিছিল নিয়ে এগোবার সময় নেহা বরা তার সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) করেন। সেখানে দেখা যায়, স্লোগান দিতে দিতে বিক্ষোভকারীরা রাস্তার একাধিক ব্যারিকেড সরিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন।

নেতাকর্মী ও বিশিষ্টজনদের আটক: মিছিল চলাকালেই পুলিশ বলপ্রয়োগ করে নেহা বরা এবং স্বরাজ ইন্ডিয়ার প্রবীণ নেতা যোগেন্দ্র যাদবকে আটক করে। এর আগে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে বিমান থেকে, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে বাসা থেকে এবং বামপন্থী নেত্রী বৃন্দা কারাট ও পিনারাই বিজয়নসহ শত শত নেতাকর্মীকে আটক করা হয়।

দিল্লি বিমানবন্দরে পুলিশি আটকের আগেই সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে একটি রেকর্ড করা ভিডিওবার্তা রেখে যান। সেখানে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, পুলিশ যদি তাদের আটক বা গ্রেপ্তার করে, তবে পরবর্তী বিক্ষোভ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেবেন অজিঙ্ক শিন্দে।

গ্রেপ্তার বা ধরপাকড়ের মুখে আন্দোলনকারীরা যেন পিছপা না হন এবং রাজপথ না ছাড়েন, সেই আহ্বান আগেই জানিয়েছিল সিজেপি নেতৃত্ব। সেই ধারাবাহিকতাতেই নেহা বরা ও যোগেন্দ্র যাদবরা বিকল্প স্থানে জমায়েতের চেষ্টা চালালেও ব্যাপক পুলিশি বাধায় তা কার্যত থমকে গেছে।



Leave a Comment