সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ; রাজধানীজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ও ইন্টারনেট বন্ধ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তরুণ ও বিরোধী রাজনৈতিক জোটের ডাকা বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানী নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় অংশে চরম কড়াকড়ি ও নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজিপি)-র ব্যানারে আয়োজিত এই সমাবেশকে ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টায় দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে এই ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হলেও পুলিশ অনুমতি না দিয়ে পুরো এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে এবং গণপরিবহন ও মোবাইল নেটওয়ার্কে বড় ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
বিরোধীরা ও তরুণ আন্দোলনকারীরা অভিযোগ তুলেছেন, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) নির্বাচনে অসাধু সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অধীনে ভোটার তালিকা পরিবর্তন করে প্রায় ১৩ কোটি নাগরিকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তারাও এই বিতর্কিত পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়ার ওপর দ্বিমত পোষণ করেছিলেন, যা বিক্ষোভ উসকে দেয়।
২০২৭ সালের শুরুতে উত্তর প্রদেশসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তাই এই তালিকা জালিয়াতির বিষয়টি মোদি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন রাজনৈতিক সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকা এবং যন্তর মন্তরের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধজুড়ে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত সব ধরনের মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের দিল্লিতে প্রবেশ ও জমায়েত ঠেকানোর লক্ষ্যে প্রায় ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং দিল্লিগামী একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
অনুমতি ছাড়া কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত জমায়েত বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করলে আইনি প্রক্রিয়ায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই বিক্ষোভকারীরা নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।