৩১ অক্টোবরের লংমার্চকে জনসমুদ্রে পরিণত করার আহ্বান
খুলনা প্রতিনিধি :শান্তিপূর্ণ লংমার্চ বানচালের যেকোনো দেশি-বিদেশি চক্রান্ত রুখে দিয়ে আগামী ৩১ অক্টোবরের ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চকে খুলনার বাবরী চত্বর (শিববাড়ি মোড়) জনসমুদ্রে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, খুলনার মাটি থেকে যে আন্দোলনের সূচনা হবে, তা কোনো অপশক্তির রক্তচক্ষু বা ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করবে না।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) নগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন উপলক্ষে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর জরুরি রুকন সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহ আলমের পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাস্টার শফিকুল আলম।
সরকারবিরোধী দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন ও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে মহানগরী আমীর বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটলেও দেশবিরোধী শক্তিগুলো এখনও বসে নেই। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের অধিকার রক্ষার্থে সমমনা দলগুলোর গঠিত ১১ দলীয় ঐক্য কোনো সংকীর্ণ স্বার্থের জন্য নয়; বরং এটি ১৭ কোটি মানুষের মুক্তি, ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ এবং ফ্যাসিবাদের শেকড় পুরোপুরি উপড়ে ফেলার জাতীয় প্ল্যাটফর্ম। আর এই প্ল্যাটফর্মের অংশ হিসেবেই আগামী ৩১ অক্টোবরের এই লংমার্চ।
রুকনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ইতিহাস সাক্ষী, যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামীর রুকনরা কখনো পিছু হটেনি। ফাঁসির মঞ্চ থেকে শুরু করে জেল-জুলুম ও নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েও আপনারা দীনের ওপর অবিচল থেকেছেন। খুলনা মহানগরীকে এই আন্দোলনের একটি দুর্ভেদ্য ঘাঁটিতে পরিণত করতে হবে।” আজ থেকে লংমার্চের দিন পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগিয়ে নগরীর প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও ঘরে ঘরে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন মহানগরী নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, খুলনা জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও গাওসুল আযম হাদী, মহানগরী অফিস সেক্রেটারি মীম মিরাজ হোসাইন, কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আ ন ম আব্দুল কুদ্দুস ও মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, যুব বিভাগের সভাপতি মুকারম বিল্লাহ, পেশাজীবী বিভাগীয় সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মোল্লা আলমগীরসহ বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ।