কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে দ্রুত ছড়ানো দাবানলে ৪ সেনা নিহত, আহত ৩৯

October 19, 2026 | Feature-2 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ চলাকালে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ঘাসের আগুনে (দাবানল) চার সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও ৩৯ জন সেনাসদস্য আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৯ জনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

রোববার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) কানাডিয়ান কর্র্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কর্মকর্তারা জানান, গত শনিবার বিকেলে ‘কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইট’ নামের সামরিক ঘাঁটির একটি প্রশিক্ষণ এলাকায় ঘাসে আকস্মিক আগুন লাগে। ঠিক সেই মুহূর্তে ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার বেগে তীব্র ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করায় আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মাত্র ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে আগুন প্রায় এক বর্গকিলোমিটার এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনায় নিহত চার সেনাসদস্যের পরিচয় প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। তাঁরা হলেন—সার্জেন্ট মরগান ওং, প্রাইভেট শন ফ্যারেল, প্রাইভেট এইডান গোল্ডিং এবং প্রাইভেট হেইডেন লাইকমার্ক।

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আগুন লাগার সময় ওই প্রশিক্ষণ এলাকায় ৮৫ জন সেনাসদস্য জীবন্ত গোলাবারুদ (লাইভ অ্যামিউনিশন) ব্যবহার করে উচ্চমাত্রার সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছিলেন। লাটভিয়ায় দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি হিসেবে তারা এই প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। উল্লেখ্য, বর্তমানে লাটভিয়ায় কানাডার সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

আলবার্টার মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথ জানিয়েছেন, আহত সেনাসদস্যদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক পোড়া ও আঘাত রয়েছে। তাদের অনেকের সুস্থ হয়ে উঠতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত বিশেষায়িত নিবিড় চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। এডমন্টন, ওয়েনরাইট, ক্যালগারি ও রেড ডিয়ারের বিভিন্ন হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে মর্মান্তিক এই প্রাণহানির ঘটনায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের স্মরণে দেশজুড়ে সব সরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় তেল-গ্যাস অবকাঠামোর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং বাইরে থেকে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়েছে—এমন সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন তদন্তকারীরা। তবে ঠিক কী কারণে এই আগুনের সূত্রপাত হলো, তা খতিয়ে দেখতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে।



Leave a Comment