পাকিস্তানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইল্যান্ডে বাস, শিশুসহ নিহত ১০ ও আহত ৪৪
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজনপুর জেলায় একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস সড়ক আইল্যান্ডে ধাক্কা খেয়ে উল্টে গিয়ে ১০ জন নিহত এবং অন্তত ৪৪ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) ভোরে রাজনপুর জেলার রোঝান তহসিলের সিন্ধু মহাসড়কের বাংলা হেদায়েত এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে বলে উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’-এর বরাতে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন।
ঘটনাস্থল ও প্রাণহানির বিবরণ
উদ্ধারকারী দল জানায়, বুধবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে অতিরিক্ত গতির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের ডিভাইডারে প্রচণ্ড শক্তিতে ধাক্কা দেয় এবং উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশু ও নারীসহ বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, দুইজন নারী এবং একটি শিশু রয়েছে।
খবর পেয়ে অগ্নিনির্বাপক ও উদ্ধারকারী দল ১০টি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
আহতদের চিকিৎসা ও চালকের বিরুদ্ধে মামলা
দুর্ঘটনায় আহত ৪৪ জনের মধ্যে ৩৮ জনকে রাজনপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন চারজনকে ডেরা গাজী খান এবং দুইজনকে রহিম ইয়ার খানের শেখ জায়েদ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার পর রাজানপুরের ডেপুটি কমিশনার ইমরান রাঞ্জা ও জেলা পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওমরকোট থানার এসএইচও শাকিল দ্রেশাক জানান, বেপরোয়া ও অবহেলাজনিত ড্রাইভিংয়ের অভিযোগে বাস চালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় চালক ও মালিক পালিয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে পুলিশ হেফাজতে আহত চালককে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক।
পাঞ্জাবে বাড়ন্ত সড়ক দুর্ঘটনা
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পাঞ্জাব প্রদেশজুড়ে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৩৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। এর আগে গত সোমবারও মূলতানের বোসান রোডে একটি বেপরোয়া কার ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে আগুন ধরে গেলে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী পাঁচজন তরুণের করুণ মৃত্যু হয়।