তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নিজের প্রথম ভাষণে নিজেকে একজন ‘সাধারণ মানুষ’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন সুপারস্টার সি. জোসেফ বিজয়। আজ রোববার (১০ মে) চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কোনো রাজকীয় পরিবার থেকে নয়, বরং সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবেই জনগণ তাঁকে গ্রহণ করেছে।
ঋণের বোঝা ও শ্বেতপত্র প্রকাশের ঘোষণা:
রাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিজয় বলেন, “তামিলনাড়ু সরকারের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। রাজ্যের মোট ঋণ ১০ লাখ কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে, সরকারি কোষাগার প্রায় শূন্য। এমন এক অসহনীয় বোঝার মধ্যে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি।” স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুতই রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের ঘোষণা দেন তিনি।
ক্ষমতার কেন্দ্র ও জোট রাজনীতি:
জোটসঙ্গীদের উপস্থিতিতেই বিজয় এক শক্তিশালী বার্তা দিয়ে বলেন, “আমাকে ছাড়া আর কোনো ক্ষমতার কেন্দ্র থাকবে না। আমিই হব একমাত্র ক্ষমতার কেন্দ্র।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জোট সরকারের চাপমুক্ত থেকে দৃঢ়ভাবে প্রশাসন পরিচালনার লক্ষ্যেই তিনি এই মন্তব্য করেছেন।
আরো পড়ুন: তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিজয়
মিথ্যা প্রতিশ্রুতি নয়, সামাজিক ন্যায়ের অঙ্গীকার:
জনগণকে প্রতারণা না করার অঙ্গীকার করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি মানুষকে এমন কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেব না যা পূরণ করা সম্ভব নয়। আজ থেকে তামিলনাড়ুতে প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ সামাজিক ন্যায়ের এক নতুন যুগ শুরু হলো।” তিনি তাঁর সরকার মূল্যায়নের জন্য জনগণের কাছে কিছুটা সময়ও চেয়ে নেন।
ব্যক্তিগত পটভূমি ও কৃতজ্ঞতা:
নিজের সংগ্রামের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিজয় বলেন, “আমি একজন সহকারী পরিচালকের ছেলে। সিনেমায় সফল হতে আমাকে কঠোর সংগ্রাম করতে হয়েছে। আমি দারিদ্র্য ও ক্ষুধার কষ্ট জানি। আপনাদের ভালোবাসার ঋণ শোধ করতেই আমি রাজনীতিতে এসেছি।” তিনি বিশেষ করে তরুণ ভক্তদের (যাঁরা তাঁকে ‘বিজয় মামা’ ডাকেন) এবং ভার্চুয়াল যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সম্পদের খতিয়ান:
নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, বিজয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ ৬২৪ কোটি রুপি। এর মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংকে সঞ্চয় ও স্থায়ী আমানত হিসেবেই রয়েছে ৩১৩ কোটি রুপি।
নরেন্দ্র মোদির অভিনন্দন:
এদিকে, বিজয়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, তামিলনাড়ুর মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকার নতুন সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।
শপথ অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, সিপিআই(এম) নেতা এম এ বেবিসহ জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।


