১ মাসেই রামিসার ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মে ২৩, ২০২৬ | Feature-1 |

বিশেষ প্রতিনিধি ও ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:  প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি প্রধান তারেক রহমান বলেছেন, “বাংলাদেশ এবং আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা। তিনি আমাদের জাতীয় সত্তার সার্থক প্রতিনিধি এবং জাতীয় ও জাতীয়তাবাদের চেতনার অবিনাশী প্রতীক।”

আজ শনিবার (২৩ মে) বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী জাতীয় অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

এক মাসে সর্বোচ্চ শাস্তির ঘোষণা ও অবক্ষয়ের চিত্র:
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মিরপুরের নিষ্পাপ শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সমাজের চূড়ান্ত অবক্ষয় স্পষ্ট হয়েছে। এই ধরনের পৈশাচিক শিশু ও নারী নির্যাতন বর্তমান সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। ইনশাল্লাহ আগামী এক মাসের মধ্যে রামিসা হত্যাকাণ্ডের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) নিশ্চিত করবে সরকার, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি এই ধরনের জঘন্য কাজ করার আর সাহস না পায়। একটি নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে আমাদের দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে।”

ফ্যাসিবাদী শাসনের ক্ষত:
বিগত শাসন ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে প্রধান অতিথি তাঁর ভাষণে বলেন, “দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসন শুধুমাত্র দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার আর সম্পদ হরণ করেনি, তারা দেশের গোটা বিচার ব্যবস্থাকেও সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে আমাদের মানবতা, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের; এগুলোকে সমাজ থেকে একেবারে বিনষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।”

নজরুল চর্চায় শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ:
ভাষণে জাতীয় কবির প্রতি জিয়া পরিবারের গভীর শ্রদ্ধা ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের স্মৃতিচারণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এক আবেগঘন তথ্যে বলেন, “১৯৭৬ সালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জানাজা নামাজের পর কবির লাশবাহী খাটিয়া যারা কাঁধে বহন করেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান ও পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান। এমনকি এরপর ১৯৮৯ সালের ২৫ মে কবির জন্মজয়ন্তীতে আয়োজিত বিশেষ র‍্যালিতেও তিনি সশরীরে অংশ নিয়েছিলেন।”

ত্রিশালের উন্নয়নে তাঁর পরিবারের অবদান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “কবির বাল্যস্মৃতি বিজড়িত এই ত্রিশালের মাটিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। নজরুলের স্মৃতি ও দর্শনকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের সরকার সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই জাতীয় অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী, পদস্থ কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক ও কবিপৌত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



Leave a Comment