পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ফল ঘিরে রণক্ষেত্র: জেলায় জেলায় সংঘর্ষ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের গণনা যত এগোচ্ছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে। একদিকে যখন ব্যালট বাক্সে বিজেপির জয়জয়কার, অন্যদিকে তখন রাজপথ রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে দুই শিবিরের লড়াইয়ে।
রণক্ষেত্র কোচবিহার ও কলকাতা
ভোট গণনার শুরু থেকেই উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। দিনহাটায় তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লাঠিচার্জ করতে হয়। অন্যদিকে কলকাতার জগদীশচন্দ্র বোস কলেজের সামনে দুই পক্ষ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। লাঠি হাতে বিজেপি কর্মীদের জমায়েত এবং তৃণমূলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের সামনেও চরম উত্তেজনা দেখা দেয়।
অগ্নিসংযোগ ও কার্যালয় ভাঙচুর
দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকেও অশান্তির খবর আসছে।
চুরুলিয়া: এখানে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
কল্যাণী: মুরাতিপুরে তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে বলে শাসক দল দাবি করেছে।
ব্যারাকপুর: বীজপুরে তৃণমূল প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে গণনাকেন্দ্রের বাইরে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
বিপর্যয়ের মুখে তৃণমূল: ২০০ পার করল বিজেপি
ভারতের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’র সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এখন সময়ের অপেক্ষা। নির্বাচনী ট্রেন্ড বলছে:
বিজেপি (BJP): ২০০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে (ম্যাজিক ফিগার ১৪৮)।
তৃণমূল (TMC): মাত্র ৮৭টি আসনে এগিয়ে।
প্রাথমিক এই প্রবণতা বজায় থাকলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধরনের পরাজয়ের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। নবান্নে ক্ষমতার পালাবদলের এই আভাস আসতেই বিজেপির উল্লাস আর তৃণমূলের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে রাজপথে।
নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারি
সহিংসতা রুখতে এবং গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে। গণনা চলাকালীন কোনো ধরনের বিজয় মিছিল বা জমায়েত না করার নির্দেশ দেওয়া হলেও অনেক জায়গায় তা অমান্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।