যুদ্ধবিরতির ঘোষণার মাঝেই রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা: ইউক্রেনে নিহত ২৭

মস্কো ও কিয়েভ—উভয় পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসা সত্ত্বেও ইউক্রেনজুড়ে নতুন করে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলের এই রক্তক্ষয়ী হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৮০ জনের বেশি মানুষ।

এই হামলাকে রাশিয়ার ‘চরম নৈরাশ্যজনক ও নির্লজ্জ আচরণ’ বলে অভিহিত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতি
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, মঙ্গলবার বিকেলে রুশ বাহিনী শক্তিশালী গ্লাইড বোমা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে দেশটির পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব এবং উত্তরাঞ্চলে তাণ্ডব চালায়। হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল:

জাপোরিঝিয়া: এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানান, এখানে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ১২ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

ক্রামাতোরস্ক: দোনেৎস্ক অঞ্চলের কিয়েভ নিয়ন্ত্রিত এই শেষ শহরে রুশ হামলায় অন্তত ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

দিনিপ্রো: এখানে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ৪ জন নিহত হয়েছেন।

জ্বালানি স্থাপনা: সোমবার দিবাগত রাত থেকে পোলতাভা ও খারকিভ অঞ্চলের সরকারি গ্যাস স্থাপনায় দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রাশিয়া।

জ্বালানি খাতে বড় আঘাত
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি নাফতোজাজ-এর প্রধান নির্বাহী সেরহি কোরেতস্কি জানিয়েছেন, গ্যাস স্থাপনায় হামলায় তাদের ৩ জন কর্মচারী এবং ২ জন উদ্ধারকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৩৭ জন। তিনি আরও জানান, “এই হামলায় ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৩ হাজার ৫০০ গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।”

যুদ্ধবিরতির মাঝেই উত্তেজনা
মর্মান্তিক এই হামলা এমন এক সময়ে চালানো হলো, যখন কিয়েভের ঘোষিত যুদ্ধবিরতি শুরু হতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি ছিল। উল্লেখ্য, গত সোমবার কিয়েভ ও মস্কো আগামী তিন দিনের জন্য পাল্টাপাল্টি যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করে রাশিয়ার এই হামলা যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটিয়েছে।

এক নজরে হতাহত:

মোট নিহত: ২৭ জন

মোট আহত: ৮০+ জন

ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল: জাপোরিঝিয়া, ক্রামাতোরস্ক, দিনিপ্রো, চেরনিহিভ, পোলতাভা ও খারকিভ।



Leave a Comment