ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ: এক বছর পর জয়-পরাজয়ের হিসাব মেলাচ্ছে দুই দেশ

ঠিক এক বছর আগে দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরমাণু শক্তিধর দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শুরু হওয়া চার দিনের রক্তক্ষয়ী আকাশযুদ্ধের বর্ষপূর্তি পালিত হচ্ছে আজ। ২০২৫ সালের মে মাসে ঘটে যাওয়া সেই সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র সংঘাতের এক বছর পূর্তিতে উভয় দেশই নিজেদের ‘বিজয়ী’ দাবি করে উৎসবে মেতেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ দুই দেশের সামরিক শক্তির সক্ষমতা যেমন দেখিয়েছে, তেমনি উন্মোচিত করেছে বড় ধরনের দুর্বলতাও।

উৎসবের আমেজ দুই দেশে:

পাকিস্তানে মে মাস শুরু হয়েছে সামরিক নেতৃত্বকে সম্মান জানিয়ে বড় বড় ব্যানার ও পোস্টারের মাধ্যমে। গত বৃহস্পতিবার রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান বিমান বাহিনী (PAF) ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার সাফল্য উদযাপন করেছে। লাহোরে সরকারিভাবে আয়োজিত কনসার্টে এই দিনটিকে ‘মারকা-এ-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধের দিন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।অন্যদিকে, ভারতও পিছিয়ে নেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এর প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করে গত বছরের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর লোগো যুক্ত করেছেন। নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় বিমান বাহিনী দাবি করেছে, তারা পাকিস্তানের ১৩টি বিমান ধ্বংস এবং ১১টি বিমানঘাঁটিতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও শুরু

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পাহলগামে পর্যটকদের ওপর হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ৭ মে ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে। এর জবাবে পাকিস্তান শুরু করে ‘অপারেশন বুনিয়ান আল-মারসূস’।

আরো পড়ুন: পুতিনের ইঙ্গিত: ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের অবসান ঘটতে যাচ্ছে

কার অর্জন কী?

প্রতিবেদনে উভয় পক্ষের কিছু কৌশলগত অর্জনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে:

পাকিস্তান: যুদ্ধের শুরুর দিকে পাকিস্তানের চীনা তৈরি জে-টেনসি (J-10C) যুদ্ধবিমান ভারতের রাফালসহ একাধিক বিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়। কূটনৈতিকভাবেও পাকিস্তান এগিয়ে ছিল, কারণ তারা তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছিল।

ভারত: ভারতের দীর্ঘপাল্লার ‘ব্রাহ্মোস’ মিসাইল পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি ও সিন্ধু প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। এছাড়া ইসরায়েলি ড্রোনের মাধ্যমে লাহোর ও করাচির আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ ভারতের বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হয়।

পানির যুদ্ধ ও দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি

সীমান্তে মিসাইল বিনিময়ের পাশাপাশি ভারত সিন্ধু নদ জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত করেছে, যা পাকিস্তানের কৃষি ও জল নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষক এরুম সাত্তার জানান, ভারতের এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের ২৪ কোটি মানুষের জীবনযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।

এক বছর পার হলেও দুই দেশের মধ্যকার অবিশ্বাসের দেয়াল এতটুকু কমেনি। আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক প্রবীণ দোনথি সতর্ক করে বলেছেন, নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব এবং পারস্পরিক আস্থার সংকটের কারণে যেকোনো সময় এই সংঘাত আবারও বড় রূপ নিতে পারে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা 

 

Facebook
X
Telegram
WhatsApp
Email
Print

সর্বশেষ সংবাদ