যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে সাড়া দিল ইরান: মধ্যস্থতায় পাকিস্তান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে ইরান। আজ রবিবার (১০ মে) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই প্রতিক্রিয়া হোয়াইট হাউসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান।

প্রতিক্রিয়ার মূল বিষয়বস্তু:

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ (IRNA) জানিয়েছে, তেহরানের এই জবাবে মূলত ‘আঞ্চলিক যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা’ এবং ‘পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার’ ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানি একটি কূটনৈতিক সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, ইরানের এই বার্তা ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

ইরানের ১৪ দফা পরিকল্পনা:

এর আগে ইরান পাকিস্তানের মাধ্যমে একটি ১৪ দফার শান্তি পরিকল্পনা পেশ করেছিল। সেই পরিকল্পনায় তিনটি প্রধান ধাপের কথা বলা হয়েছে:
১. ৩০ দিনের বিশেষ পর্যায়: একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে পূর্ণাঙ্গ শান্তিতে রূপান্তর করা।
২. অবরোধ প্রত্যাহার: ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
৩. সেনা প্রত্যাহার: অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়া এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা।

আরো পড়ুন: উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন হামলা: সংকটে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি

মার্কিন অবস্থান ও ট্রাম্পের বক্তব্য:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “তারা (ইরান) একটি চুক্তি করতে চায়। গত ২৪ ঘণ্টায় আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে এবং খুব দ্রুতই একটি সমাধান সম্ভব।” তবে এর আগে ইরানের আগের প্রস্তাবগুলোকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে নাকচ করে দিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দেওয়া এই নতুন প্রতিক্রিয়ার টেকনিক্যাল বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে।

প্রেক্ষাপট ও চ্যালেঞ্জ:

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বিভিন্ন ড্রোন হামলা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে তা বারবার হুমকির মুখে পড়ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আসন্ন শান্তি আলোচনা সফল হওয়া না হওয়ার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্য বড় ধরণের কোনো বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাবে কি না।

Facebook
X
Telegram
WhatsApp
Email
Print

সর্বশেষ সংবাদ