মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবের বিপরীতে নিজেদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরান। তেহরান তাদের এই প্রতিক্রিয়াকে ‘উদার ও দায়িত্বশীল’ বলে অভিহিত করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা একটি বাস্তবসম্মত এবং গঠনমূলক সমাধান পেশ করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য:
তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, সোমবার (১১ মে) তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এবং উত্তেজনা কমাতে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছি। আমাদের প্রস্তাবটি একইসঙ্গে ন্যায়সংগত এবং মানবিক।”
ইরানের শর্ত ও দাবি:
ইরান তাদের অবস্থানে জোরালোভাবে উল্লেখ করেছে যে, যেকোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তির আগে অবশ্যই এই অঞ্চলে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন স্থায়ীভাবে বন্ধের গ্যারান্টি চেয়েছে। এছাড়া পারস্য উপসাগরে ইরানের ওপর আরোপিত বাণিজ্যিক ও নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানের প্রতিক্রিয়া:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই জবাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে ইতিমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের এমন একপাক্ষিক অবস্থান শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা আলোচনা চায়, কিন্তু কোনো ধরণের শর্তহীন চাপের কাছে মাথা নত করবে না।
আরো পড়ুন: ইরানের জবাব ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’, প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প
কূটনৈতিক তৎপরতা:
আনাদোলু এজেন্সি আরও জানিয়েছে, পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইরান আশা প্রকাশ করেছে যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের এই প্রস্তাবকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষরণ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে চাপ দেবে।


