জাপানে ৬.৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, বুলেট ট্রেন চলাচল স্থগিত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তোহোকু এলাকায় আজ শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। জাপানের গণমাধ্যম দ্য জাপান টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৬ দশমিক ৩ মাত্রা। তবে শক্তিশালী এই কম্পনের পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
দেশটির আবহাওয়া সংস্থা (JMA)-এর বরাত দিয়ে দ্য জাপান টাইমস উল্লেখ করেছে, স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২২ মিনিটে মিয়াগি প্রিফেকচারের উপকূলবর্তী প্রশান্ত মহাসাগরের ৫০ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। ভূমিকম্পটি আঘাত হানার ঠিক আগ মুহূর্তে পুরো তোহোকু অঞ্চলে জরুরি ভূমিকম্প সতর্কতা (Emergency Earthquake Warning) জারি করা হয়েছিল।
জাপানের নিজস্ব ভূমিকম্প তীব্রতা স্কেল ‘শিন্দো’ (Seismic Intensity Scale) অনুসারে, মিয়াগি প্রিফেকচারের তোমে, ওসাকি এবং ইশিনোমিকি শহরে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ‘লোয়ার ৫’ (Lower 5)। এছাড়া মিয়াগি ও ইওয়াতে প্রিফেকচারের একটি বিশাল অংশে কম্পনের তীব্রতা স্কেল ৪ রেকর্ড করা হয়েছে।
বুলেট ট্রেন ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিস্থিতি:
রেল পরিচালনাকারী সংস্থা জেআর ইস্ট (JR East)-এর বরাতে দ্য জাপান টাইমস জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পরপরই সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাজধানী টোকিও থেকে শিন-আওমোরি স্টেশন পর্যন্ত ‘তোহোকু শিনকানসেন’ (Tohoku Shinkansen) লাইনের বুলেট ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে এই লাইনে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যদিও ‘ইয়ামাগাতা শিনকানসেন’ লাইনের কিছু ট্রেন এখনও স্থগিত রয়েছে। অন্যদিকে, মিয়াগি এবং ফুকুশিমার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি।
দ্য জাপান টাইমস তাদের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেছে, প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
চলতি বছরের সবচেয়ে বড় কম্পন: গত ২০ এপ্রিল এই অঞ্চলে আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং এর পরবর্তী সুনামি সতর্কতার পর তোহোকু অঞ্চলে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ভূ-কম্পন। আবহাওয়া সংস্থা (JMA) পূর্বে জারি করা বিশেষ সতর্কতা তুলে নিলেও এই অঞ্চলে এখনও বড় ধরণের আরেকটি ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে।