সেনা কর্মকর্তা তানজিম হত্যা মামলা: ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের যাবজ্জীবন

May 20, 2026 | Feature-2 |

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের চকরিয়ায় ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে গিয়ে নিহত সেনাবাহিনীর তরুণ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন (২৩) হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে পাঁচজনকে যাবজ্জীবন, চারজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং অপরাধে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হওয়ায় পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (২০ মে) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী জনাকীর্ণ আদালতে বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আলামত পর্যালোচনা শেষে বিজ্ঞ আদালত এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।

কার কী সাজা:

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত (৪ জন): জালাল উদ্দিন ওরফে বাবুল, হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ ও আনোয়ার হাকিম।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (৫ জন): জিয়াবুল করিম, ইসমাইল হোসেন, নুরুল আমিন, নাছির উদ্দিন ও আব্দুল করিম।

১০ বছরের কারাদণ্ড (৪ জন): মোহাম্মদ সাদেক, আনোয়ারুল ইসলাম, মোরশেদ আলম ও শাহ আলম।

খালাসপ্রাপ্ত (৫ জন): আবু হানিফ, এনামুল হক ওরফে তোতলা এনাম, মো. এনাম, কামাল ওরফে ভেন্ডি কামাল ও মিনহাজ উদ্দিন।

একই ঘটনায় দায়ের হওয়া অস্ত্র মামলাটিতেও অপরাধীদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

দেশ কাঁপানো সেই হত্যাকাণ্ড:
২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টার দিকে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় ডাকাতির খবর পেয়ে অভিযানে যায় সেনাবাহিনীর একটি দল। অভিযানে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ডাকাত দলকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন তরুণ সেনা কর্মকর্তা তানজিম সারোয়ার নির্জন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।

ঘটনার দুদিন পর ২৫ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে দুই মামলাতেই ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে।

আদালতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা জোরদার:
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম চৌধুরী রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আদালত সম্পূর্ণ সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আইনি ধারা বজায় রেখে এই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন।” রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নিহত তানজিমের পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

আজকের এই রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গণে নিহতের স্বজন, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের প্রিজন ভ্যানে করে কড়া পাহারায় কক্সবাজার জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।



Leave a Comment