ঈদে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই, ছাদে উঠলেই কঠোর ব্যবস্থা: রেল সচিব

May 23, 2026 | Feature-2 |

নিজস্ব প্রতিবেদক:  আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেন চলাচলে কোনো ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম। একই সঙ্গে ট্রেনের ছাদে যাত্রী ভ্রমণ ঠেকাতে এবং টিকিটবিহীন যাত্রীদের প্রবেশ রুখতে এবার তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

আজ শনিবার (২৩ মে) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সমন্বিত উদ্যোগে স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা:
রেল সচিব জানান, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ তৎপর আছি। বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করা হচ্ছে। আশা করছি, এবারের ঈদযাত্রা সম্পূর্ণ স্বস্তিদায়ক হবে।”

যোগাযোগ খাতের তিনটি বড় বিভাগের দায়িত্বে একই মন্ত্রী থাকার সুবিধার কথা উল্লেখ করে সচিব বলেন, “সড়ক, রেল এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে মন্ত্রী একজনই। কাজেই এবারের ঈদযাত্রায় যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের কোনো অভাব নেই।”

ছাদে ওঠা ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত:
ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে যাত্রী ভ্রমণ ঠেকাতে রেলওয়ে বিশেষ নজরদারি বাড়িয়েছে উল্লেখ করে ফাহিমুল ইসলাম বলেন, “বিশেষ করে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের মধ্যে ট্রেনের ছাদে ওঠার প্রবণতা বেশি দেখা যায়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষ এবার জিরো টলারেন্স নীতি বা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, ছাদে ওঠা ঠেকাতে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি), রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) এর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেটসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।

তিন স্তরের নিরাপত্তা ও ২৫% স্ট্যান্ডিং টিকিট:
কমলাপুরসহ প্রধান স্টেশনগুলোতে টিকিটবিহীন যাত্রী প্রবেশ ঠেকাতে তিন স্তরের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে রেলসচিব বলেন, “টিকিট ছাড়া যাত্রীরাই সাধারণত স্টেশনে অযাচিত ভিড় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তাই তারা যাতে কোনোভাবেই প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে না পারে, সে জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।”

ঈদের সময় রেলের অতিরিক্ত চাহিদার কথা বিবেচনা করে এবারও আসন সংখ্যার ২৫ শতাংশ ‘স্ট্যান্ডিং’ বা আসনবিহীন টিকিট বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।

আইনশৃঙ্খলা জোরদার ও হটলাইন চালু:
স্টেশন এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি, মেট্রোপলিটন পুলিশ ও এপিবিএনের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন। বিশেষ করে ঈদকে কেন্দ্র করে ছিনতাইকারী, পকেটমার ও টিকিট কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

রেলসচিব জানান, যাত্রীরা রেলভ্রমণ সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ, তথ্য বা জরুরি সহায়তার জন্য সরাসরি রেলওয়ের অফিশিয়াল হটলাইন নম্বর ১৩১-এ যোগাযোগ করতে পারবেন।



Leave a Comment