আজ রামিসা হত্যা মামলার চার্জ গঠন শুনানি: ট্রাইব্যুনালে আনা হলো ঘাতক সোহেল ও তার স্ত্রীকে
আদালত প্রতিবেদক: রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংস শিরশ্ছেদ হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। আজ সোমবার (১ জুন) সকালে মামলার দুই প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
আজ ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এই মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) গঠনের ওপর গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
(নোট: আপনার পাঠানো ড্রাফটে ‘মঙ্গলবার (১ জুন)’ উল্লেখ ছিল, তবে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ ১ জুন সোমবার। সংবাদপত্রের নির্ভুলতার স্বার্থে দিনটি সংশোধন করে দেওয়া হলো।)
অভিযোগপত্রে ধর্ষণ ও হত্যার রোমহর্ষক বিবরণ:
এর আগে গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে আদালতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত চার্জশিটটি গ্রহণ করে মামলাটি চূড়ান্ত বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন।
পুলিশের দাখিল করা এই অভিযোগপত্রে মূল আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে শিশুটিকে পাশবিক ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার সরাসরি অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে এই অবুঝ শিশুটিকে ফুসলিয়ে ঘরে আনা এবং হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি প্রমাণ করতে অভিযোগপত্রে মোট ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
ফ্ল্যাটের ভেতর শয়নকক্ষে মস্তকবিহীন মরদেহ, বালতিতে মাথা:
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে নিজের ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না তাকে কৌশলে ফুসলিয়ে নিজেদের ফ্ল্যাটের ভেতরে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে আসামির ফ্ল্যাটের দরজার সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি।
সন্দেহ হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাক্ত মরদেহ এবং রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি ভাসতে দেখে পুরো এলাকায় স্তব্ধতা নেমে আসে। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পল্লবী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্ত্রী স্বপ্নাকে ঘরের ভেতর থেকেই হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল হোতা সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পূর্ব শত্রুতা ছিল না, মাদক সেবনে বিকৃত লালসা:
এই নৃশংস ঘটনার পরদিন ২০ মে (বুধবার) নিহত শিশুর পিতা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারের পর আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের অপরাধ ও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেয়। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই পাষণ্ড ঘাতক আদালতকে জানায়, ভুক্তভোগী শিশু রামিসার পরিবারের সঙ্গে তাদের আগে থেকে কোনো ধরনের পূর্ব শত্রুতা ছিল না; কেবল মাদকাসক্ত অবস্থায় বিকৃত লালসা চরিতার্থ করতেই সে এই জঘন্যতম অপরাধ ঘটিয়েছে।
আজ অভিযোগ গঠন শুনানির মাধ্যমে এই নরপিশাচদের সর্বোচ্চ শাস্তির দিকে মামলার বিচারিক কাজ এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।