মার্কিন বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে আইআরজিসি’র মিসাইল হামলা

জুন ১, ২০২৬ | Feature-2 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আমেরিকার বিমান হামলার জবাবে এবার সরাসরি পাল্টা সামরিক অ্যাকশনে নেমেছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)। আজ সোমবার (১ জুন) ইরানের সিরিক দ্বীপের কাছে মার্কিন আগ্রাসনের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ফোর্স একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে সরাসরি এই প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘আল জাজিরা’ এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর সামরিক সংঘাতের খবর নিশ্চিত করেছে।

আইআরজিসি’র পক্ষ থেকে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সিরিক দ্বীপে ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ টেলিকমিউনিকেশন টাওয়ারে (যোগাযোগ টাওয়ার) মার্কিন সামরিক বাহিনী যে হামলা চালিয়েছিল, তার সুনির্দিষ্ট ও উপযুক্ত জবাব দিতেই এই পাল্টা অপারেশন চালানো হয়েছে। তবে কৌশলগত ও সামরিক নিরাপত্তার স্বার্থে আক্রান্ত মার্কিন বিমান ঘাঁটিটির নাম ও সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করেনি তেহরান।

চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা:

আজকের এই পাল্টাপাল্টি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম বিপজ্জনক ও অস্থিতিশীল রূপ ধারণ করেছে। চলমান পরোক্ষ মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনার মাঝেই এই ঘটনাটি ঘটল।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছে, “আগ্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনী কর্তৃক যেকোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি বা চুক্তি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ইরানের এই সশস্ত্র ও সমপরিমাণ প্রতিক্রিয়া দেখানোর অধিকার সম্পূর্ণ বৈধ ও সুনিশ্চিত।” এর আগে ইরান সীমান্তে অনুপ্রবেশ করায় মার্কিন বাহিনীর একটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ (MQ-9 Reaper) ড্রোন ভূপাতিত করার এবং একটি মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) ফাইটার জেট ও আরেকটি ড্রোনের ওপর সরাসরি গুলিবর্ষণ করার দাবিও করে আইআরজিসি।

কূটনৈতিক আলোচনা ও গভীর অবিশ্বাস:

অন্যদিকে, এই রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের মধ্যেই কাতারের মধ্যস্থতায় দোহাতে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান চলছে। তবে আজ তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, “আমেরিকার সাথে এই বার্তা আদান-প্রদান চরম গভীর অবিশ্বাস ও সন্দেহের মধ্য দিয়ে চলছে।”

তিনি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে বারবার অবস্থান পরিবর্তন ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ এনে বলেন, আমেরিকার এই দ্বিমুখী নীতির কারণেই যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বারবার ধীরগতির শিকার হচ্ছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এই মুহূর্তে কোনো পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে কথা হচ্ছে না, তেহরানের প্রধান লক্ষ্য হলো এই যুদ্ধের অবসান ঘটানো। কিন্তু মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর সেন্টকম (CENTCOM) যখন ‘আত্মরক্ষা’র নামে ইরানের হরমুজগান প্রদেশ ও বন্দর আব্বাসের মতো বেসামরিক ও সামরিক অঞ্চলে একের পর এক বিমান হামলা চালাচ্ছে, তখন পাল্টা আঘাত ছাড়া তেহরানের সামনে কোনো পথ খোলা নেই বলে বার্তা দিয়েছে আইআরজিসি।



Leave a Comment