সিসিইউতে রামিসার বাবা, দেখতে গেলেন জামায়াত আমীর
নিজস্ব প্রতিবেদক: আদালতে ফুটফুটে মেয়ে রামিসার খুনিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন ও বিচার শুরু হওয়ার দিনই হঠাৎ তীব্র বুকের ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। আজ সোমবার (১ জুন) দুপুরে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করলে তাঁকে দ্রুত শেরেবাংলা নগরের জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করেন।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মেহেদী হাসান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, শিশু রামিসার বাবা বর্তমানে হাসপাতালের ‘সিসিইউ-১’ এ ভর্তি রয়েছেন। তিনি জানান, বুকে ব্যথার কারণে তাঁকে দুপুরে হাসপাতালে আনা হয় এবং বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর হার্ট অ্যাটাকের (হৃদরোগের মারাত্মক লক্ষণ) কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
হাসপাতালে ছুটে গেলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান:
এদিকে সন্তানহারা এক জনাকীর্ণ পিতার হঠাৎ সিসিইউতে ভর্তির খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ছুটে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুল হান্নান মোল্লার পাশে কিছু সময় অবস্থান করেন, তাঁর শয্যাপাশে বসে সান্ত্বনা দেন এবং উপস্থিত চিকিৎসকদের কাছ থেকে তাঁর চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। জামায়াত আমীর তাঁর উন্নত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান।
আজই শুরু হয়েছে রামিসা হত্যার আনুষ্ঠানিক বিচার:
উল্লেখ্য, আজ সোমবার সকালেই ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে আলোচিত এই শিশু হত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়, যার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটির ট্রায়াল বা বিচারকাজ শুরু হয়। আদালত আগামীকাল মঙ্গলবার থেকেই এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।
এর আগে গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে (৭) কৌশলে ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে পাশবিক ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এই লোমহর্ষক ঘটনার পরদিন নিহতের পিতা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে দ্রুত গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। আজ আদালতে নিজের মেয়ের খুনিদের মুখোমুখি হওয়ার পর তীব্র মানসিক চাপ ও শোক থেকেই হান্নান মোল্লা বুকে ব্যথায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করছেন স্বজনেরা।