বাজেট অধিবেশনের আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা ‘ধোঁকাবাজি’: শফিকুর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ আগে তড়িঘড়ি করে আবারও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা চলছে উল্লেখ করে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকার আশ্বস্ত করার পরও যদি পুনরায় তেলের দাম বাড়ানো হয়, তবে তা হবে জনগণের সাথে এক ধরনের ‘ধোঁকাবাজি’ এবং চরম ‘জনস্বার্থবিরোধী’ পদক্ষেপ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন এবং যেকোনো ধরনের জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তাঁর দল শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে স্পষ্ট ঘোষণা দেন।
‘দিশেহারা জনগণ বাঁচবে কীভাবে?’
জামায়াতের আমীর তাঁর পোস্টে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক চিত্র তুলে ধরে বলেন, “কেবল গত মাসেই এক দফায় জ্বালানি তেলের মূল্য ৮ থেকে ১২ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, ক্ষেত্রবিশেষে এর চেয়েও বেশি। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রত্যক্ষ প্রভাবে বাজারে সব ধরনের দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। অথচ এই কঠিন সময়ে মানুষের আয় একবিন্দুও বাড়েনি, বরং ক্রমাগত বেকারত্ব বেড়েই চলেছে।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এমন দমবন্ধকর পরিস্থিতিতে দিশেহারা জনগণ যাবে কোথায়, করবে কী, আর বাঁচবেই বা কীভাবে?”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সমাজের অস্তিত্ব সংকট:
দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বর্তমানে সমাজে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে ভয়াবহ রূপ ফুটে উঠেছে, তার সঙ্গে জ্বালানি তেলের এই দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধি ও দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি সম্মিলিতভাবে আজ দেশ ও সমাজের অস্তিত্বকে এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।
অধিকার আদায়ে দেশবাসীকে জেগে ওঠার আহ্বান:
অধিকার কেউ ঘরে এসে দিয়ে যাবে না উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, “প্রিয় দেশবাসী, আমাদের অধিকারের জন্য আমাদেরকেই জেগে উঠতে হবে, কথা বলতে হবে। অধিকার লড়াই করে ছিনিয়ে আনতে হবে।” জামায়াতে ইসলামী সর্বদা জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে বলে তিনি তাঁর পোস্টে আশ্বস্ত করেন।