জয়পুরহাট সীমান্তে বিএসএফের কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার চেষ্টা, বিজিবির কড়া বাধা
জয়পুরহাট প্রতিনিধি: ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তে নানা কারণে উত্তেজনা যেন কোনোভাবেই থামছেই না, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর থেকে এই প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পূর্ব উচনা ঘোনাপাড়া সীমান্তে আবারও আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন সম্পূর্ণ অমান্য করে নো-ম্যান্স ল্যান্ড বা শূন্য রেখায় জোরপূর্বক কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। তবে স্থানীয় সীমান্তবাসী ও কৃষকদের দেওয়া দ্রুত খবরের ওপর ভিত্তি করে আজ বুধবার (৩ জুন) সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং বিএসএফের বেড়া দেওয়ার অবৈধ কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন।
স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরেই জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কয়া বিওপির (বর্ডার আউটপোস্ট) আওতাধীন পূর্ব উচনা ঘোনাপাড়া সীমান্তের ২৮১ নম্বর মেইন পিলারের ৪৭ ও ৪৮ নম্বর সাব পিলারের মধ্যবর্তী এলাকায় শূন্য রেখার একদম কাছাকাছি এসে এই কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু করে বিএসএফ সদস্যরা।
বিজিবি-বিএসএফ তুমুল বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা:
সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দা মো. রায়হান বলেন, “বিএসএফ প্রায় সময়ই কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আমাদের সীমানা ঘিরে ফেলার অপচেষ্টা চালায়। আমার বাড়ির পাশেই গত কয়েকদিন ধরে দেখছি অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন থেকে দিনরাত পাহারা দিচ্ছে। এবারও বিএসএফ যখন কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে সীমানায় এগিয়ে আসছিল, তখন আমরা স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত বিজিবি ক্যাম্পে খবর দিই।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক:
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরবর্তীতে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে একটি জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ আপাতত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পতাকা বৈঠকের সিদ্ধান্ত তোয়াক্কা না করেই বিএসএফ সদস্যরা এর আগে রাতের অন্ধকারে বেশ কিছু এলাকা জুড়ে গোপনে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করে ফেলে। বিএসএফের এমন আইন অমান্যের পর থেকে সীমান্তে বিজিবি আরও কঠোর ও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং সীমান্তে অস্ত্রসহ টহল জোরদার করেছে।
এ বিষয়ে জয়পুরহাট বিজিবির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত বক্তব্য পাওয়া না গেলেও জয়পুরহাট-২০ বিজিবির ক্যাম্প কমান্ডার সাত্তার হোসেন সীমান্তে বিএসএফের বেড়া দেওয়ার চেষ্টার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যমের সামনে এই মুহূর্তে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেওয়া যাবে না।