চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে ৩ নারীসহ ৫ জনের মৃত্যু

জুন ৪, ২০২৬ | Feature-2 |

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন উপজেলায় কালবৈশাখী বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে তিন নারীসহ পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কেবল শিবগঞ্জ উপজেলাতেই আম কুড়াতে গিয়ে মারা গেছেন তিনজন। এছাড়া সদর ও নাচোল উপজেলায় আরও দুজন প্রাণ হারিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে পৃথক স্থানে এই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহতদের পরিচয়:

বজ্রপাতে নিহতরা হলেন— চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার এলাকার মো. রাব্বিলের ছেলে আব্দুল্লাহ; শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্র গ্রামের আব্দুর রবের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার ও রানীবাড়ি-বাজারপাড়ার আবুল কাশেমের মেয়ে সাদিয়া খাতুন এবং মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়ার ফিটু আলীর ছেলে মো. মেসবাউল। এছাড়া নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি (লাহপাড়া) গ্রামের সুমিয়ারা বেগমও বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন।

আম বাগানেই প্রাণ গেল শিবগঞ্জের তিনজনের:

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান জানান, শিবগঞ্জ উপজেলায় মারা যাওয়া তিনজনই তাঁদের বাড়ির সংলগ্ন আম বাগানে অবস্থান করছিলেন। বিকেলে বৃষ্টির সময় বাগানে আম কুড়াতে গেলে আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাঁরা মারা যান। শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, নিহত ওই তিন পরিবারের প্রত্যেককে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

মাঠে গরু ও ঘাস আনতে গিয়ে বাকি দুই মৃত্যুর ঘটনা:

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, সদর উপজেলার আতাহারে বৃষ্টির মধ্যে মাঠে চড়তে দেওয়া গরু আনতে গিয়েছিল কিশোর আব্দুল্লাহ। এ সময় তীব্র বজ্রপাতে সে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে নাচোল থানার ওসি সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, নাচোল উপজেলার লাহপাড়ায় মাঠে ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন সুমিয়ারা বেগম। বৃষ্টি শুরু হলে মাঠ থেকে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতের শিকার হয়ে তিনি মারা যান। প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, সদর ও নাচোল উপজেলায় মৃতদের পরিবারকেও সরকারিভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।



Leave a Comment