আদ্‌-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল: ঢাকার ৬ সরকারি হাসপাতালে রোগী রেফারের নির্দেশ

জুন ১৩, ২০২৬ | Feature-2 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার দায়ে রাজধানীর মগবাজারের আদ্‌-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটিতে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে ঢাকার শীর্ষ ৬টি সরকারি হাসপাতালে তাদের তাৎক্ষণিক ও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আজ শনিবার (১৩ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) এই সংক্রান্ত অফিস আদেশটি জারি করা হয়।

অফিস আদেশের নির্দেশনা:

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, গত ১১ জুনের স্মারক মোতাবেক আদ্‌-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেখানে চিকিৎসাধীন বা সেখান থেকে রেফার করা রোগীদের জীবন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ঢাকার ৬টি নির্দিষ্ট সরকারি হাসপাতালে তাৎক্ষণিক ভর্তি ও যথাযথ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হলো।

যেসব সরকারি হাসপাতালে রেফারের নির্দেশ:

আদ্‌-দ্বীনের রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত ৬টি হাসপাতাল হলো—

১. ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

২. স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল

৩. শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

৪. মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

৫. কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং

৬. বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট।

নবজাতকের মৃত্যু ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন:

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে আদ্‌-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি বিশেষ ওয়ার্ডে একযোগে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পৃথক দুটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালটিতে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের স্বল্পতা, ডিউটিরত চিকিৎসক ও নার্সদের চরম দায়িত্ব অবহেলা এবং সংকটকালীন মুহূর্তে ওয়ার্ডে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুপস্থিতিকে নবজাতকদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সন্তোষজনক নয় কারণ দর্শানোর জবাব:

তদন্তে গুরুতর অনিয়ম ও অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার পর গত ৪ জুন আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না—তা জানতে চেয়ে ৭ দিনের সময় দিয়ে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া লিখিত জবাব স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাছে মোটেও সন্তোষজনক মনে হয়নি। যার ফলে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) হাসপাতালটির লাইসেন্স সম্পূর্ণ বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর।



Leave a Comment