অপহরণের ২৩ ঘণ্টা পর লাকসাম থেকে উদ্ধার শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান

জুন ১২, ২০২৬ | Feature-2 |

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে অপহৃত হওয়া বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান প্রধানকে অপহরণের দীর্ঘ ২৩ ঘণ্টা পর লাকসাম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (১২ জুন) রাত ১০টায় জিসানের উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর বড় ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল রাফি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, অপহরণকারীরা জিসানকে কুমিল্লার লাকসাম এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। উদ্ধারের সময় তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও সংকটাপন্ন ছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর বড় ভাই।

মডেল মসজিদের পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন জিসান:

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ঢাকা থেকে নিজ বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বীরবাগগোয়ালী গ্রামে ফিরছিলেন ছাত্রনেতা জিসান প্রধান। পথিমধ্যে তিনি দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ আদায় করেন। এরপর থেকেই মূলত পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে তাঁর সমস্ত যোগাযোগ আকস্মিক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

জিসানের পরিবার জানিয়েছিল, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে জিসান সর্বশেষ তাঁর বাবাকে ফোন করে জানান যে, তিনি নিরাপদে দাউদকান্দি এসে পৌঁছেছেন এবং অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়িতে ফিরবেন। তবে রাত ৮টা ২৯ মিনিটে তাঁর ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে সর্বশেষ ‘অনলাইন’ দেখা যায়। এর ঠিক পরপরই তাঁর মোবাইল ফোনটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং ফেসবুক আইডিও ডিঅ্যাক্টিভেট পাওয়া যায়। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে তাঁর কোনো সন্ধান না পেয়ে দাউদকান্দি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি/অভিযোগ দায়ের করেন তাঁর বড় ভাই।

লাকসাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে উদ্ধার:

জিসান প্রধানের উদ্ধারের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি-চান্দিনা সার্কেল) খলিলুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। আজ রাতে লাকসাম রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে জিসানকে উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, উদ্ধারের সময় জিসান শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ ও দুর্বল ছিলেন। তাকে প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে—তা উদ্ঘাটনে পুলিশ ও গোয়েন্দা দল তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।



Leave a Comment