ইসলামী ব্যাংকে কোনো অবৈধ হস্তক্ষেপ হয়নি, আমানতকারীদের অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ: গভর্নর

জুন ১২, ২০২৬ | Feature-2 |

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকারের পক্ষ থেকে ইসলামী ব্যাংকে কোনো ধরনের অবৈধ বা অযাচিত হস্তক্ষেপ করা হয়নি বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি জোরালোভাবে উল্লেখ করেন, ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো ধরনের নিয়মবহির্ভূত বা অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ করেনি।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেট-উত্তর এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

অনিয়মের অভিযোগে পরিচালক পরিবর্তন:

গভর্নর সংবাদ সম্মেলনে জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে মোট পাঁচজন স্বাধীন সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে একজন সদস্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত ১৬ মার্চ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে পরিবর্তন করা হয়। এটি কোনো রাজনৈতিক বা অযাচিত হস্তক্ষেপ ছিল না, বরং ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ বা হস্তক্ষেপ নিয়ে যে ধরনের নেতিবাচক অভিযোগ বা গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সঠিক নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক এই ব্যাংকের কোনো ঋণ অনুমোদন, নতুন জনবল নিয়োগ কিংবা কর্মকর্তাদের পদোন্নতির বিষয়ে কোনো ধরনের নির্দেশনা বা প্রভাব খাটায়নি।”

চেয়ারম্যান পদত্যাগ ও দ্রুত নতুন নিয়োগের কারণ:

পবিত্র ঈদুল আজহার আগে ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানের আকস্মিক পদত্যাগের বিষয়ে গভর্নর ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ব্যাংকের সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ সচল এবং গ্রাহক সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং খাতের একটি অত্যন্ত বড় ও ‘সিস্টেমিক ব্যাংক’ (Systemic Bank) হওয়ায় এর ন্যূনতম পরিচালনা কাঠামো ও চেইন অব কমান্ড বজায় রাখা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির স্বার্থেই জরুরি প্রয়োজন ছিল।

আমানতকারীদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান:

ইসলামী ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহক ও আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, “গ্রাহকদের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। ইসলামী ব্যাংকের প্রতিটি আমানত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং নিরাপদ রয়েছে। গ্রাহকেরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।”

ব্যাংকটির আর্থিক সূচকের সর্বশেষ চিত্র তুলে ধরে গভর্নর জানান, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইসলামী ব্যাংকের অ্যাডভান্স-ডিপোজিট রেশিও (এডিআর বা ঋণ-আমানত অনুপাত) ছিল প্রায় ৯৩ শতাংশ, যা চলতি ২০২৬ সালের মার্চ মাসে এসে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এডিআর (ADR)-এর এই হার স্বাভাবিক সীমার চেয়ে কিছুটা বেশি হলেও বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ব্যাংকটি বড় কোনো ঝুঁকিতে নেই বলে তিনি নিশ্চিত করেন।



Leave a Comment