ক্ষমতার জন্য নয়, বিএনপির রাজনীতি দেশের ২০ কোটি মানুষের জন্য: প্রধানমন্ত্রী

জুন ১৩, ২০২৬ | Feature-1 |

বিশেষ সংবাদদাতা, কক্সবাজার: দেশের মানুষের জন্য সামাজিক ও মানবিক বাজেট পেশ করার পরও বিরোধী দলের ঢালাও সমালোচনার তীব্র জবাব দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “এবারের বাজেট পেশ করার পর এখন পর্যন্ত বাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। বরং ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কর বাড়ানো হয়েছে শুধু মদ ও সিগারেটের ওপর, কারণ এগুলো মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এখন মদ ও সিগারেটের দাম বাড়ানোই কি বাজেট বিরোধী দলের পছন্দ না হওয়ার কারণ? তাদের উদ্দেশ্য জনগণ ভালোভাবেই বুঝতে পারছে।”

আজ শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টায় কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনকালে এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

‘এ বাজেটের লক্ষ্য অশান্তি তৈরি করা নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানো’:

বিরোধী দলের সমালোচনাকে ‘জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “একটি খবরে দেখলাম তারা বলছেন মানুষের ক্ষতিকারক দিকগুলোর বিষয়ে দাম বাড়ানো হয়েছে। তাহলে বিরোধী দলের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য আপনারা বুঝতে পেরেছেন? তাদের লক্ষ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। তাদের লক্ষ্য একটাই—দেশে অশান্তি তৈরি করা এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করা। কিন্তু দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, দেশের মালিক ২০ কোটি জনগণ। তাদের কল্যাণেই সরকারের সব পরিকল্পনা।”

পিতার স্মৃতিবিজড়িত খালে ছেলের মাটি কাটা:

এর আগে বেলা ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ হাতে মাটি কেটে ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে গ্রামীণ অর্থনীতি ও সেচব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশব্যাপী যে ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন, পাতলী খাল ছিল তার অন্যতম অংশ। ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে জিয়াউর রহমান নিজে কক্সবাজারে এসে এই খালের উদ্বোধন করেছিলেন। প্রায় অর্ধশতাব্দী পর তাঁরই সুযোগ্য সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই খালের পুনঃখনন কাজের সূচনা করায় আজ পিএমখালীতে এক অভূতপূর্ব আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকার গঠন করতে পারলে দেশের জন্য কাজ করব—জনগণকে এমন প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথেই এগিয়ে যাচ্ছি। পাতলী খাল পুনঃখনন শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের হাতিয়ার। এই খালটি পুনঃখনন হলে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বছরে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।”

কৃষক ও চিকিৎসা খাতে বড় ঘোষণা:

বাজেটে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান ঘোষণা করেন, প্রতিটি জেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষককে ‘কৃষি কার্ড’ দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে কৃষকেরা নগদ আড়াই হাজার টাকা করে সরাসরি প্রণোদনা পাবেন।

সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে বড় ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দরিদ্র ও মধ্যবিত্তের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হার্টের রিং এবং কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ ও ওষুধের ওপর আরোপিত সমস্ত কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। স্বল্পমূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।” এছাড়া গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও তিনি জানান।

ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের পড়াশোনা সম্পূর্ণ ফ্রি:

নারী শিক্ষার প্রসারে বিএনপি সরকারের অবদানের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার পথ উন্মুক্ত করেছিলেন। আমরা সেই ধারাবাহিকতায় স্নাতক ও ডিগ্রি (পাস) কোর্স পর্যন্ত নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েরা যাতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়, সেজন্য উপবৃত্তি কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করা হবে।”

নেতৃবৃন্দের ভিড় ও দিনভর কর্মসূচি:

সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মাবুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল।

এর আগে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। দিনব্যাপী সফরে প্রধানমন্ত্রী এরপর চকরিয়ায় দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত, নতুন পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং চকরিয়ায় এক বিশাল জনসভায় যোগ দেবেন। সব কর্মসূচি শেষে আজ রাতেই তাঁর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।



Leave a Comment