হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলা, প্রতিহতের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

জুন ১৩, ২০২৬ | Feature-2 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম প্রধান কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে চালানো ইরানের একাধিক ড্রোন হামলা প্রতিহত ও ভূপাতিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনার আবহ তৈরি হওয়ার মাঝেই এই বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঘটনা ঘটল। খবর আনাদুলার

বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার চেষ্টা:

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, ইরান আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলকারী সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজগুলো লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ (আত্মঘাতী ড্রোন) উৎক্ষেপণ করেছিল। হরমুজ প্রণালী দিয়ে পারাপার হওয়া জাহাজগুলোর ওপর আঘাত হানাই ছিল এই ড্রোনগুলোর মূল লক্ষ্য।

বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনরত মার্কিন বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে এই ড্রোনগুলোর অবস্থান শনাক্ত করে এবং সাগরে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত হানার আগেই সফলভাবে সেগুলোকে আকাশেই ধ্বংস (ভূপাতিত) করে দেয়।

ঝুঁকিতে আন্তর্জাতিক নৌ-যোগাযোগ, সচল রাখার ঘোষণা:

সেন্টকম এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ‘আসন্ন ও সরাসরি হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে এই হামলার ঘটনার পরও হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ-যান চলাচল বন্ধ করা হয়নি। মার্কিন সামরিক সদর দফতর জোর দিয়ে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে এই কৌশলগত জলপথটি সমস্ত দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের যাতায়াতের জন্য সম্পূর্ণ ‘উন্মুক্ত ও সচল’ রয়েছে এবং এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে।

কূটনৈতিক আলোচনার মাঝেই উত্তেজনা:

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতায় যখন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের জোর গুঞ্জন চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ইরানের এই ড্রোন হামলা এবং মার্কিন বাহিনীর তা প্রতিহত করার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে নতুন করে জটিল করে তুলল। মার্কিন ও ভারতীয় ক্রু-সংবলিত জাহাজগুলোকে টার্গেট করে এই আঞ্চলিক উত্তেজনা ছড়ানোর পেছনে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জড়িত বলে দাবি মার্কিন কর্মকর্তাদের। তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যকার পর্দার আড়ালের কূটনৈতিক আলোচনা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায় কি না, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।



Leave a Comment