দেশের সীমানা পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও অবদান রাখছে সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান
নিজস্ব প্রতিবেদক: সামরিক জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা করা ও ধর্মীয় অনুশাসন নিখুঁতভাবে মেনে চলা অত্যন্ত অপরিসীম বলে মন্তব্য করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, “মাতৃভূমির প্রিয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য একটি দক্ষ, আধুনিক ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম। আর এই সেনাবাহিনীর নেতৃত্বের মূল দায়িত্বভার মূলত তরুণ অফিসারদের কাঁধেই ন্যস্ত।”
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রামের ভাটিয়ারির বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ ‘রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান এসব কথা বলেন।
বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন:
সকালে বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে সেনাপ্রধানকে স্বাগত জানানো হয়। এরপর তিনি সুসজ্জিত কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং দৃষ্টিনন্দন প্যারেডের সালাম ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজ শেষে তিনি দীর্ঘ প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী কৃতী ক্যাডেটদের মাঝে গৌরবোজ্জ্বল ও মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার বিতরণ করেন।
নতুন কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের প্রতি সেনাপ্রধানের ৪ মূলমন্ত্র:
সেনাবাহিনী প্রধান নতুন অফিসারদের পেশাগত জীবনে সফল হতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলি অর্জনের তাগিদ দেন:
১. ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুশাসন: সামরিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা এবং নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত রাখা।
২. আনুগত্য ও শৃঙ্খলা: সেনাবাহিনীর মূল ভিত্তি তথা চেইন অব কমান্ডের প্রতি শতভাগ অনুগত থাকা এবং কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
৩. ন্যায়পরায়ণতা: যেকোনো পরিস্থিতিতে সহকর্মী ও অধস্তনদের প্রতি ন্যায়বিচার ও ন্যায়পরায়ণতা প্রদর্শন করা।
৪. কর্তব্যবোধ ও দেশপ্রেম: একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বুকভরা দেশপ্রেম ও সর্বোচ্চ কর্তব্যবোধে উজ্জীবিত থাকা।
বিএমএ-এর গৌরবময় অবদানের প্রশংসা:
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নিবেদিতপ্রাণ দক্ষ, চৌকস, মেধাবী এবং একবিংশ শতাব্দীর দূরদর্শী নেতৃত্বের জন্য উপযুক্ত সেনা অফিসার তৈরির লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী দিকনির্দেশনায় ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ军事 একাডেমি (বিএমএ)। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই একাডেমি হতে কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ দেশের সীমানা পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে।” তিনি আরও বলেন, ‘চির উন্নত মম শির’ মূলমন্ত্রে দীক্ষিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিএমএ-এর দূরদর্শী পরিকল্পনা ও সাবলীল প্রশিক্ষণ পরিচালনার মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করে চলেছে, যার জন্য পুরো জাতি গর্বিত ও কৃতজ্ঞ।
‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’-এর ঐতিহাসিক উদ্বোধন:
বিশ্বের পরিবর্তিত ও আধুনিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের চিত্র তুলে ধরে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে সেনাবাহিনীর সার্বিক আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নানামুখী বাস্তবমুখী উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’-এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে আজই (১৮ জুন) উদ্বোধন করা হচ্ছে, যা আমাদের সামরিক ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক।”
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং নবীন অফিসারদের গর্বিত অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।